শীতের সময়ে নিয়মিত আপেল খাচ্ছেন? তার সঙ্গে যদি যোগ করেন এক টুকরো আদা, স্বাদ যেমন বদলাবে, তেমনই বাড়বে শরীরের উপকারও। আপেল ও আদা– দুটি খাবারই আলাদাভাবে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্তু একসঙ্গে খেলে তাদের গুণাগুণ আরও বেশি কার্যকর হয়—এমনই মত পুষ্টিবিদদের।
মুম্বইয়ের পুষ্টিবিদ লিমা মহাজনের মতে, প্রতিবার আপেল খাওয়ার সময় সামান্য আদা খেলে আপেলের উপকারী উপাদানগুলো শরীরে দ্রুত কাজ করে। এতে হজম, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, এমনকি ওজন কমাতেও সাহায্য পেতে পারেন।
১. হজমের উন্নতি
আদা পাচকরস বের হতে সাহায্য করে এবং আপেলের ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ফলে গ্যাস, অম্বল বা পেট ফাঁপার সমস্যা কমতে পারে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আপেলে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আর আদা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণে সমৃদ্ধ। তাই ঠান্ডা লাগা, সর্দি–কাশি বা ঋতু পরিবর্তনের ছোটখাটো অসুস্থতা এড়াতে এই জুটি দারুণ উপকারী।
৩. ওজন কমাতে সহায়ক
আপেলের ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ক্যালরিও কম। আদা মেটাবলিজম বাড়ায়, ফলে বাড়তি ক্যালরি খরচ হয়ে ওজন কমতে সাহায্য করে।
৪. হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
আপেল রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, আর আদা রক্তসঞ্চালন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত একসঙ্গে খেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
৫. ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
আদার ‘জিঞ্জারল’ প্রদাহ কমায় এবং আপেলের কোয়ারসেটিন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে অস্থিসন্ধি ও পেশির ব্যথা ও শরীরের ভেতরের ক্ষত সেরে উঠতে সাহায্য করে।
কীভাবে খাবেন?
শরবত: আপেল ও আদা ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিয়ে লেবুর রস ও বিট নুন মেশান।
চা: আদা ও আপেলের টুকরো ফুটিয়ে ছেঁকে মধু দিয়ে পান করুন।
স্যালাড: আপেলের টুকরো ও আদা কুচি লেবুর রস ছড়িয়ে স্যালাড হিসেবে খান।
সতর্কতা: যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তবে নিয়মিত আদা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন: Recipe: বাড়িতে বানিয়ে নিন কমল পুলি
Image source-Google