গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সকাল ১০টা পার হতেই রোদের তেজ অসহনীয় হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহের (Heatwave) সতর্কতা জারি হয়েছে। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে বাইরে বেরোতেই হয়। তাই এই গরমে সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সতর্কতা অবলম্বন করলে হিটস্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: Recipe: বাড়িতে বানিয়ে নিন বাদাম মাটন
বাইরে বেরোনোর আগে প্রথমেই নজর দিতে হবে পোশাকে। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা সবচেয়ে উপযোগী। গাঢ় রঙ বা সিন্থেটিক কাপড় শরীরে তাপ বাড়িয়ে দেয়। রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা, টুপি ও ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। এগুলি শরীরকে সরাসরি সূর্যালোকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
গরমে শরীরে জলের ঘাটতি হওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। তাই বাইরে বেরোনোর আগে পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। নুন-চিনি মিশ্রিত জল বা লেবুর শরবত শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাইরে থাকাকালীনও সঙ্গে জল রাখা উচিত। বাড়ি ফিরে আবার এক গ্লাস লেবু-জল খেলে শরীর দ্রুত সতেজ হয়।
খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। বাইরে বেরোনোর আগে হালকা খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। ভাত, ডাল ও হালকা ঝোল জাতীয় খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। একই সঙ্গে ত্বকের যত্ন নেওয়াও জরুরি। রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা র্যাশের সমস্যা কম হয়।
তবে কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। আঁটসাঁট পোশাক পরা উচিত নয়, এতে শরীর আরও গরম হয়ে ওঠে। খালি পেটে চা বা কফি খাওয়া বিপজ্জনক, কারণ ক্যাফিন শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করে। আবার অতিরিক্ত খেয়ে রোদে বেরোনো বা একেবারে না খেয়ে বেরোনো—দুটিই ক্ষতিকর। এতে মাথা ঘোরা বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাস্তার ধারে খোলা পানীয় বা শরবত খাওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলি অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। এছাড়া বাইরে থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের ঠান্ডা জল পান করা বা ঘেমে গিয়ে সরাসরি এসি ঘরে ঢোকাও উচিত নয়। এতে শরীরে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সর্বোপরি, এই প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে (Heatwave) সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। নিয়ম মেনে চললে তাপপ্রবাহের মাঝেও সুস্থ থাকা সম্ভব।