ত্বকের যত্নে নতুন নতুন টোটকার অভাব নেই। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে প্রতিদিনই ভেসে ওঠে নানা ‘ঘরোয়া’ উপায়, যা নাকি সহজেই ব্রণ, দাগ বা নিষ্প্রাণ ত্বকের সমস্যা দূর করতে পারে। সম্প্রতি এমনই এক ট্রেন্ডে উঠে এসেছে Clove বা লবঙ্গ-জল। অনেকেই দাবি করছেন, এই লবঙ্গ-জল ব্যবহার করলেই ব্রণ কমবে, ত্বক হবে উজ্জ্বল ও টানটান। কিন্তু এই দাবির কতটা সত্যি?
অনেক নেটপ্রভাবীর মতে, রাতভর ভিজিয়ে রাখা লবঙ্গের জল পান করলে শরীরের ভিতর থেকে দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়, ফলে ত্বকে জেল্লা ফিরে আসে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লবঙ্গ ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে মুখে স্প্রে করলে ব্রণ, র্যাশ বা ফুসকুড়ি কমে। এই মিশ্রণকে কেউ বলছেন ‘গ্লো আপ মিস্ট’, কেউ আবার ‘ন্যাচারাল অ্যাকনে ক্লিয়ার’ হিসেবে প্রচার করছেন।
এই দাবির পিছনে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। লবঙ্গে রয়েছে ‘ইউজেনল’ নামক উপাদান, যা অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং প্রদাহনাশক গুণসম্পন্ন। এই কারণেই দাঁতের ব্যথা বা গলার সমস্যায় লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়। ফলে ধারণা করা হয়, ত্বকের সংক্রমণ কমাতেও এটি সাহায্য করতে পারে।
তবে বাস্তব চিত্রটা একটু ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গ বা লবঙ্গ তেলের উপকারিতা নিয়ে কিছু গবেষণা থাকলেও সরাসরি লবঙ্গ-জল ত্বকে ব্যবহার করলে ব্রণ সম্পূর্ণ সেরে যাবে—এমন কোনও প্রামাণ্য তথ্য নেই। বরং অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা বা অ্যালার্জির ঝুঁকিও থাকতে পারে।
তবে একেবারেই যে উপকার নেই, তা-ও নয়। অল্প পরিমাণে লবঙ্গ ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে মুখে হালকা স্প্রে করলে সাময়িক সতেজতা পাওয়া যেতে পারে। অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণের জন্য হালকা সংক্রমণ প্রতিরোধেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ত্বক একেবারে উজ্জ্বল হয়ে যাওয়া বা দাগ-ছোপ সম্পূর্ণ মুছে যাওয়ার মতো ফল আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রণের সমস্যা যদি বেশি হয়, তা হলে ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত। কারণ ভুল উপাদান ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, লবঙ্গ-জল একটি সহায়ক উপাদান হতে পারে, কিন্তু একে ‘ম্যাজিক সমাধান’ ভাবা ঠিক নয়। ত্বকের যত্নে সচেতনতা, সঠিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসার সাহায্য নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
আরও পড়ুন: Food Foma: খাওয়ার পরেই ঝিমুনি? ‘ফুড কোমা’ এড়াতে বদল আনুন খাবার ও অভ্যাসে
Image source-Google