বয়স যতই বাড়ুক, করীনা কপূর খান এবং করিশ্মা কপূরের ত্বকের উজ্জ্বলতা যেন কমার নামই নেয় না। তাঁদের নিখুঁত ও সতেজ ত্বক নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। দামি প্রসাধনী বা জটিল বিউটি ট্রিটমেন্ট নয়, বরং ছোটবেলা থেকে শেখা কয়েকটি সহজ ঘরোয়া অভ্যাসই তাঁদের ত্বকের যত্নের মূলমন্ত্র— এমনটাই জানালেন করিশ্মা কপূর।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, তাঁদের পরিবারে বরাবরই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার চল ছিল। দিদিমা ও ঠাকুমার কাছ থেকেই তিনি এবং করীনা শিখেছিলেন ঘি ও দুধের সর ব্যবহার করার অভ্যাস। এখনও সেই সহজ পদ্ধতিই অনুসরণ করেন দুই বোন।
করিশ্মার কথায়, ত্বকের যত্নে তিনি খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করেন না। বরং নিয়মিত খাবারের সঙ্গে ঘি খাওয়া এবং প্রয়োজনমতো ত্বকে ঘি বা দুধের সর লাগানোই তাঁদের সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম অংশ। এই সাধারণ অভ্যাসই বছরের পর বছর তাঁদের ত্বককে কোমল ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘিতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। শুষ্ক ত্বকে পাতলা করে ঘি লাগালে ত্বক কিছুটা নরম ও মসৃণ অনুভূত হতে পারে। এছাড়া ঘিতে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ঘি খাওয়ার ফলে শরীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর চর্বিও পায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, দুধের সরও দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাট, প্রোটিন এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। ল্যাকটিক অ্যাসিড একটি প্রাকৃতিক আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড (AHA), যা মৃত কোষ দূর করে ত্বককে তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে দুধের সর একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন। সব ধরনের ত্বকের জন্য ঘি বা দুধের সর সমানভাবে উপযোগী নয়। যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, ব্রণপ্রবণ বা সহজেই রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখে ঘি ব্যবহার করলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত ব্যবহার করার আগে ত্বকের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
করীনা ও করিশ্মার সৌন্দর্যচর্চার এই সহজ রুটিন আবারও মনে করিয়ে দেয়, সব সময় দামি প্রসাধনী নয়, অনেক সময় ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদানও ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে তবেই যে কোনও উপাদান ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
Image source-Google