কোভিডের সময় জনপ্রিয় হয়েছিল কাজ করার একটি নতুন পদ্ধতি – ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’। প্রথম প্রথম চাকুরীজীবীরা এতে বেশ খুশিই হয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। অফিসে না গিয়ে বাড়িতে বসে কাজ, এর থেকে আনন্দের আর কি বা হতে পারে! কোভিড চলে গিয়েছে অনেকদিন হল, কিন্তু রেখে গেছে এই বিশেষ পদ্ধতিকে। তবে সবকিছুরই যেমন ইতিবাচক দিক থাকে, তেমনই থাকে নেতিবাচক দিক। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ যেমন বাড়িতে থেকে কাজ করার স্বাচ্ছন্দ্য দেয়, তেমনই এটি আসলে কর্মচারীদের সকলরকম স্বাধীনতা কেড়ে নেয়। ঘুরতে গিয়েও অফিসের কাজ যাতে না করতে তাই জেন জি’দের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে এক নতুন পন্থা – উধাও ভ্রমণ (Dead Zoning)।
আরও পড়ুন: দেখতে হুবহু আসল, কিন্তু আসলে নকল! এলাচে ভেজাল নিয়ে FSSAI-এর সতর্কবার্তা
বাড়িতে বসে কাজ করার জন্য অনেকক্ষেত্রেই দিনের নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করতে হয়। আবার ঘুরতে গিয়েও কাজের থেকে রেহাই পাওয়া যায়না। সবসময়ই ফোনে ঢুকতে থাকে অফিসের কল, মেসেজ, ইমেল। আর এইসবকিছুর মূলে রয়েছে ইন্টারনেট। বর্তমানে ইন্টারনেট আমাদের সবকিছুতেই লাগে। টাকা পেমেন্ট, ট্রেন/হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে রাস্তা চেনা সবকিছুতেই ইন্টারনেটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘুরতে গিয়ে ইন্টারনেটকে বাদ দিলে চলবেনা। তাই এই ‘উধাও পন্থা’র (Dead Zoning) মূল উদ্দেশ্য দরকার ছাড়া ইন্টারনেটের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে আপনাকে ডিজিটাল জগৎ থেকে মুক্ত রাখা। অর্থাৎ কাজের জায়গা বা সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখা যাতে শান্তিতে ছুটি উপভোগ করা যায়।
মনোবিদদের মতে এই নতুন পদ্ধতি বর্তমান প্রজন্মের জন্য যথেষ্ট দরকার। আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনে ব্যস্ত। সেখানে মাঝে মাঝে মনকে রিফ্রেশ করার জন্য ঘুরতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেখানেও যদি সর্বক্ষণ অফিস থেকে কল বা মেল আসে তাহলে মানসিক চাপ বা ক্লান্তি দূর হয়না। সেক্ষেত্রে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকেও প্রকৃতিকে উপভোগ করা হয়না। তাই ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার না করে কর্মজগৎ থেকে সম্পূর্ণ ছুটির মেজাজে উপভোগ করতে বেশ কার্যকর এই নতুন পদ্ধতি।
Image source-Google