চুল পড়া, ভেঙে যাওয়া কিংবা পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন এবং সঠিক কেশচর্চা মেনে চললেই পাতলা চুলও ধীরে ধীরে ঘন হতে পারে। শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই হবে না, মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে।
মাসাজ়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন
চুলের যত্নে মাসাজ় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল দিয়ে বা তেল ছাড়াও মাথার ত্বকে নিয়মিত মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। স্নানের আগে মাত্র দু’মিনিট মাথার ত্বকে মাসাজ় করলেই চুলের স্বাস্থ্যে উপকার মেলে। শ্যাম্পু করার ১৫ মিনিট আগে হালকা গরম তেল আঙুলের ডগা দিয়ে ৫–৭ মিনিট মালিশ করে নিতে পারেন। বর্তমানে স্ক্যাল্প মাসাজ়ারও পাওয়া যায়, শ্যাম্পুর সময় তা ব্যবহার করলে আরও ভাল ফল পাওয়া যায়।
চুলের উপর অত্যাচার নয়
ঘন ঘন ড্রাই শ্যাম্পু, হেয়ার স্ট্রেটনার বা কার্লারের ব্যবহার চুলের ক্ষতি করে। পাতলা চুল ঘন করতে চাইলে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। প্রয়োজনে হিট স্টাইলিংয়ের আগে অবশ্যই ‘হিট প্রোটেক্টর স্প্রে’ ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগে চুল রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
মাথার ত্বকের যত্ন নিন
ঘন চুলের প্রথম শর্ত হল সুস্থ মাথার ত্বক। খুশকি বা সংক্রমণ থাকলে চুল পড়া অনিবার্য। ঘাম, তেল ও ময়লা জমে গেলে মাথার ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। তাই নিয়মিত শ্যাম্পু করে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের রুক্ষভাবও কমে।
খাবারে নজর দিন
যে খাবার শরীরের জন্য ভাল, তা চুলের পক্ষেও উপকারী। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার— যেমন ডিম, মাছ, মাংস ও বাদাম— চুলের গঠনে সাহায্য করে। অন্য দিকে কার্বনযুক্ত পানীয়, ভাজাভুজি ও জাঙ্ক ফুড চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। তাই খাদ্যতালিকা বাছাই করা জরুরি।
পর্যাপ্ত ঘুম দরকার
ঘুম চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। দীর্ঘদিন ঘুম কম হলে হরমোনের গোলমাল থেকে চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে।
সঠিক যত্ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও ধৈর্য— এই তিনটি মেনে চললেই ঘন, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাওয়ার পথে অনেকটাই এগোনো সম্ভব।
আরও পড়ুন: Debchandrima Singha Roy: প্রেমের সপ্তাহে একাকী দেবচন্দ্রিমা, কেমন সঙ্গী চান অভিনেত্রী?
Image source-Google