রজোনিবৃত্তির পর মহিলাদের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের মতো গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও মনের উপর। হট ফ্ল্যাশ, অতিরিক্ত ঘাম, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের ওঠানামা, হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা যোনি শুষ্কতার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গ কমাতে অনেকেই এখন মেনোপজাল হরমোন থেরাপি (Menopausal Hormone Therapy বা MHT)-র সাহায্য নিচ্ছেন। তবে এই চিকিৎসা কি সবার জন্য উপযুক্ত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরটি নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপর।

 

মেনোপজাল হরমোন থেরাপিতে মূলত শরীরে কমে যাওয়া ইস্ট্রোজেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রজেস্টেরন হরমোনের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়। এই চিকিৎসার ফলে অনেকের হট ফ্ল্যাশ কমে, রাতে ঘাম হওয়া নিয়ন্ত্রণে আসে, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং যোনির শুষ্কতা বা অস্বস্তিও অনেকটাই কমে যেতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতেও এই থেরাপি কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

 

তবে এই চিকিৎসা শুরু করার আগে রোগীর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যপরীক্ষা জরুরি। কারণ, সব মহিলার জন্য এই থেরাপি নিরাপদ নয়। যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ, লিভারের অসুখ, কিডনির জটিলতা, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বা স্তন ক্যানসারের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই শুধুমাত্র উপসর্গের ভিত্তিতে নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রজোনিবৃত্তির পরে যদি উপসর্গগুলি দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তা হলে হরমোন থেরাপি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এটি কখনওই নিজের ইচ্ছেমতো শুরু করা উচিত নয়। রোগীর বয়স, স্বাস্থ্য, রোগের ইতিহাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকই ঠিক করেন কোন ধরনের হরমোন, কী মাত্রায় এবং কত দিন দেওয়া হবে।

 

এই চিকিৎসার ধরনও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। যাঁদের হিস্টেরেকটমির মাধ্যমে জরায়ু বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেক সময় শুধু ইস্ট্রোজেন দেওয়া হয়। কিন্তু যাঁদের জরায়ু রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণত ইস্ট্রোজেনের সঙ্গে প্রজেস্টেরনও দেওয়া হয়, যাতে জরায়ুর আস্তরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানো যায়।

 

চিকিৎসকেরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মেনোপজ কোনও রোগ নয়, বরং জীবনের একটি স্বাভাবিক ধাপ। সব মহিলারই যে হরমোন থেরাপির প্রয়োজন হবে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললেই উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

 

তাই রজোনিবৃত্তির পরে হরমোন থেরাপির কথা ভাবলে আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ স্ত্রীরোগ চিকিৎসক বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন। নিজের শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করেই সঠিক চিকিৎসা বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

আরও পড়ুন: Nawazuddin Siddiqui: পঞ্জাবি ছবিতে নতুন ইনিংস? সোনম বাজওয়ার বিপরীতে অভিনয়ের জোর জল্পনায় নওয়াজ়উদ্দীন সিদ্দীকী

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *