ইনস্টাগ্রাম খুললেই চোখে পড়ছে বরফ দিয়ে রূপচর্চার নানা কৌশল। দাবি, প্রতিদিন মুখে বরফ ঘষলেই নাকি ছোট হয়ে যাবে ওপেন পোরস, ত্বক পাবে কাচের মতো জেল্লা। বলিউড তারকাদের নাম জড়িয়েও এই প্রবণতা নিয়ে চর্চা চলছে। কিন্তু সত্যিই কি বরফ ঘষলে মুখের খোলা রন্ধ্রের আকার কমে যায়? নাকি সাময়িক ফলের আশায় অজান্তেই ত্বকের ক্ষতি করছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে বরফ ঘষলে ওপেন পোরসের আকার স্থায়ীভাবে ছোট হয় না। বেঙ্গালুরুর চিকিৎসক শ্বেতা শ্রীধরের বক্তব্য, ঠান্ডার প্রভাবে ত্বক সাময়িক ভাবে আঁটসাঁট দেখাতে পারে এবং ফোলা ভাব কমতে পারে। সেই কারণেই পোরস ছোট দেখানোর ভ্রম তৈরি হয়। তবে এই প্রভাব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।
ত্বকের পোরস কতটা দৃশ্যমান হবে, তা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। জিনগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের ধরন, অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এবং বয়স—সবই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা নেয়। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সিবাম ও মৃত কোষ জমে পোরস আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে কোলাজেনের পরিমাণ কমলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায়, ফলে পোরস বেশি চোখে পড়ে।
বরফ ঘষলে ত্বকের কী ক্ষতি হতে পারে?
ত্বকের সংস্পর্শে বরফ এলে রক্তনালি সাময়িক ভাবে সংকুচিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন। এর ফলে মুখের হালকা ফোলা ভাব কমতে পারে এবং ত্বক কিছুটা সতেজ দেখাতে পারে। কিন্তু বরফ পোরসের স্বাভাবিক গঠন বদলে দিতে পারে না।
বরং সরাসরি মুখে বরফ ঘষলে ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব এবং শুষ্কতা বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডায় ত্বকের ক্ষতি বা কোল্ড বার্নের আশঙ্কাও থাকে। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, রোজ়াসিয়া বা অন্য কোনও ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বিশেষ ভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক কিংবা ঠান্ডায় সংবেদনশীলতার সমস্যা থাকলেও সতর্ক থাকা জরুরি।
ওপেন পোরস কম দৃশ্যমান করতে কী করবেন?
ত্বকের যত্নে ভাইরাল টোটকার বদলে নিয়মিত ও বিজ্ঞানসম্মত পরিচর্যার উপর ভরসা রাখুন।
১. জেন্টল ক্লিনজ়ার: দিনে দু’বার মুখ পরিষ্কার করলে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করতে সাহায্য করে।
২. স্যালিসাইলিক অ্যাসিড: পোরসের ভিতরে জমে থাকা তেল ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। ত্বকের ধরন বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
৩. রেটিনয়েড: ত্বকের গঠন ও কোলাজেনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. ময়েশ্চারাইজ়ার ও সানস্ক্রিন: প্রতিদিন ত্বকের উপযোগী নন-কমেডোজ়েনিক ময়েশ্চারাইজ়ার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
মুখের ফোলা ভাব কমাতে বরফ ব্যবহার করতে চাইলে সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। নরম কাপড়ে মুড়ে অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন এবং অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন। তবে সংবেদনশীল ত্বক বা ত্বকের বিশেষ সমস্যা থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।
মনে রাখবেন, পোরস ত্বকের স্বাভাবিক অংশ। সেগুলি সম্পূর্ণ গায়েব করে দেওয়ার কোনও সহজ জাদুকাঠি নেই। তাই সমাজমাধ্যমের প্রতিটি রূপচর্চার কৌশল না বুঝে অনুসরণ না করে, নিজের ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী যত্ন নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
Image source-Google