মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজো মানেই সাবেকিয়ানা, পারিবারিক ঐতিহ্য আর পুরনো রীতিনীতির মেলবন্ধন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সেই পরম্পরা মেনেই প্রতি বছর দেবীকে বরণ করে বিদায় জানান পরিবারের সদস্যেরা। দশমীর দিন দেবীবরণের পর সিঁদুরখেলায় মেতে ওঠেন বাড়ির মহিলারা। সেই চেনা ছবির ব্যতিক্রম হল না এ বারও। পরিবারের পুজোয় যোগ দিয়ে সাবেকি সাজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।
দশমীর জন্য কোয়েলের সাজ ছিল একেবারে বাঙালিয়ানায় মোড়া। লাল পাড় সাদা শাড়ির সঙ্গে পরেছিলেন লাল ব্লাউজ়। মাথায় খোঁপা, সঙ্গে ছিমছাম সোনার গয়না—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ফুটে উঠল সাবেকি আভিজাত্য।
দশমী মানেই তো বিদায়ের সুর, মনখারাপের দিন। কোয়েলের মনেও কি সেই বিষাদের ছোঁয়া? সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োয় অভিনেত্রী বলেন, “আজ যদিও মনখারাপের পালা। কিন্তু নিজেদের সান্ত্বনা দিয়ে বলব, আসছে বছর আবার হবে! শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। সকলে ভাল ও আনন্দে থাকবেন। অন্যদেরও আনন্দে রাখবেন।”
পুজোর প্রথম দিন থেকেই মল্লিকবাড়িতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। প্রতিদিনই নিয়ম মেনে হয়েছে পুজো, ভিড় জমিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা। অষ্টমীর সকালেও অঞ্জলি দিতে দেখা গিয়েছিল কোয়েলকে। পুজোর নানা কাজে হাত লাগিয়েছিলেন তিনি। পাশে ছিলেন স্বামী নিসপাল সিংহ রানে এবং দুই সন্তান কবীর ও কাব্যা। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক ও তাঁর স্ত্রীও। দশমীতেও সেই চেনা ছবি। ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে দেবীকে বিদায় জানান পরিবারের সদস্যেরা।
কোয়েলের কাছে দুর্গাপুজো শুধু উৎসবের কয়েকটি দিন নয়, বরং শিকড়ের টান। অভিনয়ের ব্যস্ততা যতই থাকুক, পুজোর সময় পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলি তাঁর কাছে বরাবরই বিশেষ। অঞ্জলি থেকে দেবীবরণ—মল্লিকবাড়ির প্রতিটি রীতিতে ছোট-বড় সকলের অংশগ্রহণ পুজোর আবহকে আরও আপন করে তোলে।
দশমীতে দেবীকে সিঁদুর, পান-সুপারি ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করার পর একে অপরের সিঁথি ও কপালে সিঁদুর ছুঁইয়ে দেন বাড়ির মহিলারা। ঐতিহ্য মেনেই এ বারও পালিত হল সেই রীতি।
উল্লেখ্য, এ বার নবমীর সন্ধ্যায় মল্লিকবাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপ্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি কোয়েল-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।
আরও পড়ুন বাড়িতে বানিয়ে নিন নারকেলের প্যারাকি
Image source-Google