জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রায় এক দশক আগে তাঁর গলব্লাডারে একটি পাথর ধরা পড়েছিল। চিকিৎসক তখন অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও তিনি এখনও সেই পথে হাঁটেননি। কারণ, এত বছরেও পাথরের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনও শারীরিক সমস্যা হয়নি। তবে ভ্রমণে বেরোলে সতর্কতাবশত প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখেন তিনি।
দিলজিতের কথায়, ২০১৫ সালে তীব্র পেটব্যথার কারণে পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানা যায়, তাঁর পিত্তথলিতে প্রায় ১১-১২ মিলিমিটার আকারের একটি পাথর রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরামর্শ পেলেও এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তাঁর ধারণা, পাথরটি হয়তো আর আগের অবস্থায় নেই। যদিও এ বিষয়ে নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, পিত্তথলি বা গলব্লাডার লিভার থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস জমা রাখে। এই পিত্তে থাকা কোলেস্টেরল বা অন্যান্য উপাদান জমাট বাঁধলে ধীরে ধীরে পাথর তৈরি হতে পারে। স্থূলতা, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, পিত্তথলির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সমস্যা কিংবা সংক্রমণ— সবই এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গলব্লাডারে পাথর থাকলে অনেকের পেটের ডান দিকের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা, বমিভাব, গ্যাস, অম্বল বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনও উপসর্গই থাকে না। কিন্তু পাথর যদি নড়ে গিয়ে পিত্তনালিতে আটকে যায়, তা হলে জন্ডিস, তীব্র সংক্রমণ বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
সব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান নয়। যদি পাথর ছোট হয়, উপসর্গ না থাকে এবং জটিলতার ঝুঁকি কম থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ, এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি বা শক ওয়েভ লিথোট্রিপসির মতো চিকিৎসার মাধ্যমেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, ঘন ঘন পেটব্যথা, জ্বর, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, বমি কিংবা তীব্র অস্বস্তি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে গলব্লাডারের পাথর গুরুতর জটিলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
Image source-Google