রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার আবহ। বিধানসভা চত্বরে (WB Assembly) অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষীদের প্রবেশে এবার কার্যত রাশ টানল স্পিকারের দপ্তর। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সোমবার বিধানসভা ভবনের প্রবেশপথে টাঙানো হল স্পষ্ট নির্দেশিকা — “কোনও বিধায়ক, মন্ত্রী কিংবা প্রতিনিধি নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে আর বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হবে না।”
এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে গতবছরের আগস্টে ঘটে যাওয়া এক বিতর্কিত ঘটনা। বিধানসভা চত্বরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ঘিরে ওঠে নিরাপত্তার প্রশ্ন। শুভেন্দু-সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ তোলেন, তাঁদের নিরাপত্তার দাবি স্পিকারের দপ্তরে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরিণতিতে বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে।
বিরোধীদের দাবি ছিল, যখন শাসকদলের বিধায়করা অনায়াসে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারেন, তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা প্রাপ্ত বিরোধী বিধায়কদের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম কেন? এই প্রশ্নেরই আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয় আদালতে। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সমস্ত বিধায়কের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এরপরই স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে দেন কঠোর বার্তা— “এখন থেকে কেউই নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও নিয়ম কার্যকর থাকবে।” কিন্তু এই ঘোষণায় রাজনৈতিক জল আরও ঘোলা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “যদি মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই নিয়ম ভাঙেন এবং নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন, তবে আমরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হব। প্রয়োজনে স্পিকারের বিরুদ্ধেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে।”
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে — আদতে কি এই নির্দেশ নিরাপত্তার সমতা রক্ষার জন্য, না কি বিরোধী কণ্ঠরোধের আরেক কৌশল? আর মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ‘ব্যতিক্রম’ তৈরির সম্ভাবনা থাকলে, তা কতটা সংবিধানসম্মত? রাজনীতির মাঠে এই নতুন সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন নজর গোটা রাজ্যের।