রাজ্য বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে উঠেছে ১০০ কোটিরও বেশি মূল্যের সম্পত্তি অর্জনের গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, বিগত তিন বছরে অস্বাভাবিকভাবে সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ওই নেতার ও তাঁর নিকটাত্মীয়দের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ও তথ্য পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার (JP Nadda) দপ্তরে। বিষয়টি নিয়ে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, উক্ত নেতা ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য সম্পত্তির মালিক ছিলেন না। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর থেকেই আচমকা বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পত্তি তাঁর ও তাঁর পরিবারের নামে কেনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ঋণে জর্জরিত থাকার পরও কীভাবে সম্ভব হলো এই পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহ?
প্রেরিত অভিযোগপত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে—
1. এই বিপুল সম্পদের উৎস কোথা থেকে এল, তার পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তদন্ত করা হোক।
2. দলীয় পরিচয় ও পদমর্যাদাকে ব্যবহার করে সম্পত্তি অর্জনের কোনও চক্রান্ত বা প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।
3. এই সম্পত্তি ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় উপরমহলের কোনও নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল কি না, সেটাও তদন্তের আওতায় আনা হোক।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা এই নেতার সঙ্গে রাজ্য বিজেপির একাধিক হেভিওয়েট নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায়, গোটা বিষয়টি আরও জটিল আকার নিচ্ছে। অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে সিবিআই ও ইডির দপ্তরেও চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। দলের অন্দরেই এই ইস্যু নিয়ে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিজেপির একাংশ মনে করছে, বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনকে বিপাকে ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।