রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও নিয়োগের অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে ফের রণক্ষেত্রের রূপ নিল বিধাননগরের রাজপথ। সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গ এনআইওএস ডিলিড সংগ্রাম (WB NIOS D.El.Ed protest) মঞ্চের আহ্বানে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে যায়। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, আইনি জটিলতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবকে হাতিয়ার করে এদিন চাকরিপ্রার্থীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তোলেন।

আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ হলো, সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত ১২৩৩ জন যোগ্য প্রার্থীকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি, যা সরাসরি আদালতের অবমাননা এবং প্রার্থীদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার চেয়েও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ধরণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। তাঁদের মতে, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন বা এনসিটিই-এর স্পষ্ট গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়মিতভাবে টেট পরীক্ষা আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন প্রার্থীদের সুযোগ সঙ্কুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে কয়েক হাজার যোগ্য প্রার্থী বয়সের সীমারেখা পার করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। অভিযোগ আরও গভীর হয়েছে শূন্যপদ নিয়ে পর্ষদের গোপনীয়তার কারণে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পড়ে থাকা সত্ত্বেও যৎসামান্য পদের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক কৃত্রিম ও অযৌক্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য মূলত আসল সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘোরানো।

এদিনের আন্দোলনে শুধুমাত্র নিয়োগের দাবিই নয়, বরং রাজ্যের সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং স্কুলগুলির জরাজীর্ণ পরিকাঠামো নিয়েও সরব হন সংগ্রাম মঞ্চের সদস্যরা। বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই বাড়ে যে, আন্দোলনকারীরা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গৌতম পালের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, সভাপতির অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।চাকরিপ্রার্থীদের এই অভিযানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। করুণাময়ী মোড় থেকে শুরু করে বিকাশ ভবন চত্বর পর্যন্ত গোটা এলাকা নিশ্ছিদ্র পুলিশি পাহাড়ায় মুড়ে ফেলা হয়। একাধিক স্তরে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি ও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন। নিয়োগের জট না কাটা পর্যন্ত এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এনআইওএস ডিলিড সংগ্রাম মঞ্চ (WB NIOS D.El.Ed protest)।

 

আরো দেখুন:https://newz24hours.com/2026/02/16/sir-voter-list-pmay-banglar-bari-documents-not-valid-election-commission-clarification/