এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) চলা এক মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে যদি গণহারে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তাহলে শীর্ষ আদালত চুপচাপ বসে থাকবে না। প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করা হবে।
বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অধিক সংখ্যক বৈধ ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, নাম বাদ দেওয়া নয়। অতীতে এই একই পর্যবেক্ষণ করেছিল ডিভিশন বেঞ্চ। এবার সরাসরি হুঁশিয়ারির সুরে বলল, ‘গণবিছিন্নকরণ’ হলে আদালত চুপ করে বসে থাকবে না।
এই মামলার সূত্রপাত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের মাধ্যমে। পরে সেই মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারও যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। পাশাপাশি বিহারসহ একাধিক রাজ্যে SIR সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাগুলোকেও একত্রিত করে শুনানি চলছে এই বেঞ্চে।
কমিশনের পক্ষে হলফনামায় জানানো হয়েছে, ভোটারদের অধিকার খর্ব করে কোনও প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে না। তবে আধার কার্ড একমাত্র পরিচয়পত্র হলেও, ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী তা ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে যথেষ্ট নয়। একইসঙ্গে রেশন কার্ডের মতো ভুয়ো নথির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবু সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কমিশনকে পরামর্শ দিয়েছে— আধার ও ভোটার কার্ড, উভয়কেই বৈধ নথি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু কমিশনের অনাগ্রহ দেখে বিচারপতিরা কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, ভোটার তালিকা থেকে যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা ভুলভাবে গণহারে নাম বাদ পড়ে, তবে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ তখন অবশ্যম্ভাবী।