দীর্ঘদিন ধরে বাংলার সংস্কৃতি, ধর্মীয় আবেগ এবং ঐতিহ্যকে সামনে রেখে নানা উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার সেই ধারাবাহিকতায় একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেছিলেন এক অভিনব প্রকল্প ‘দুর্গা অঙ্গন’। সেই পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন মিলেছে। রাজ্যের পর্যটন দপ্তর এবং হিডকো যৌথভাবে এই বিশাল উদ্যোগ বাস্তবায়িত করবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, ইউনেস্কো যখন বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক হেরিটেজের স্বীকৃতি দেয়, তখন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন এই ঐতিহ্যকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরার। তাঁর ভাবনায় তৈরি হচ্ছে ‘দুর্গা অঙ্গন’—একটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং পর্যটনকেন্দ্রিক স্থান, যা বাংলার দুর্গাপুজোর মাহাত্ম্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হবে একটি বিশেষ ট্রাস্ট, যার সদস্যদের নাম শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
‘দুর্গা অঙ্গন’ যে কেবলমাত্র ধর্মীয় স্থল হবে না, বরং এটি পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও গড়ে তোলা হবে, সেকথা স্পষ্ট করেছে রাজ্য প্রশাসন। একদা যেমন দিঘায় নির্মিত ‘জগন্নাথধাম’ পর্যটকদের আকর্ষণ করে তুলেছে, তেমনি ‘দুর্গা অঙ্গন’ও রাজ্যের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই ঘোষণাকে ঘিরে চর্চার কেন্দ্রে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলে দুর্গা ও কালীর নাম উচ্চারণ করা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রশ্ন তোলে। তার জবাবে রাজনৈতিক পাল্টা চাল হিসেবেও দেখছেন অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন উদ্যোগকে।
যদিও প্রকল্পটি কোথায় বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই ‘দুর্গা অঙ্গন’ সংক্রান্ত অবস্থান, নকশা এবং সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। বাংলার মাটি থেকে আবারও জেগে উঠবে ‘দেবী দুর্গা’র মহিমা—এই আশাতেই পথচলা শুরু।