গ্রীষ্মের তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরোয়। এই ঘামের সঙ্গে শুধু জলই নয়, শরীরের প্রয়োজনীয় লবণ ও খনিজও বেরিয়ে যায়। ফলে অজান্তেই দেখা দিতে পারে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। এই সমস্যা সময়মতো বুঝতে না পারলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে, এমনকি গুরুতর অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উপরও প্রভাব পড়তে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, জলশূন্যতা কখনওই হালকা ভাবে নেওয়ার মতো বিষয় নয়। কিন্তু শরীরে জলের ঘাটতি সবসময় বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না। তাই কিছু সহজ পরীক্ষা করে নিজেই বুঝে নেওয়া যায় শরীরে জলের পরিমাণ ঠিক আছে কি না।

 

প্রথম পরীক্ষা: প্রস্রাবের রং ও পরিমাণ

গরমে যদি প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় বা রং গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, তবে তা জলশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রস্রাবের রং হালকা হওয়া উচিত। তাই এই পরিবর্তন দেখলেই জলপান বাড়ানো জরুরি। শুধু জল নয়, ডাবের জল, লেবুর শরবত বা ঘোলও শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।

 

দ্বিতীয় পরীক্ষা: মুখ ও জিভের আর্দ্রতা

জিভ দিয়ে মুখের ভেতরের অংশ স্পর্শ করলে যদি তা শুকনো লাগে, তবে বুঝতে হবে শরীরে জলের ঘাটতি রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় মুখের ভেতর আর্দ্র থাকে। এই সমস্যা দেখা দিলে বার বার জল খাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি টাটকা ফলের রস বা প্রাকৃতিক পানীয় খেতে পারেন।

 

তৃতীয় পরীক্ষা: হৃদ্‌স্পন্দনের পরিবর্তন

শরীরে জল কমে গেলে রক্ত ঘন হয়ে যায়, ফলে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। শুয়ে থাকা অবস্থায় একবার নাড়ির গতি মাপুন, তারপর দাঁড়িয়ে আবার মাপুন। যদি হঠাৎ করেই গতি বেড়ে যায়, তা হলে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

 

সাধারণ ভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করা উচিত। তবে একবারে বেশি না খেয়ে, কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর অল্প অল্প করে জল খাওয়াই ভালো। বেশি ঘাম হলে ডাবের জল, ফলের রস বা নুন-লেবুর ঘোল খেলে শরীর দ্রুত সুস্থ থাকে।

 

অন্যদিকে, বাজারে পাওয়া কার্বনেটেড পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ড্রিংক এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলি তৃষ্ণা মেটালেও শরীরে জলের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

সব মিলিয়ে, গরমে সুস্থ থাকতে হলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই সহজ পরীক্ষাগুলি নিয়মিত করলে জলশূন্যতার ঝুঁকি এড়ানো অনেকটাই সম্ভব।

আরও পড়ুন: Recipe: স্বাদ বদলাতে বাড়িতে বানিয়ে নিন এই নিরামিষ রেসিপি – মোচা দিয়ে ‘ধোঁকা’

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *