সারাদিনের কাজের চাপে নিজের জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন। পার্লারে যাওয়া বা দীর্ঘ স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। অথচ ৪০ পেরোনোর পর থেকেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এই বয়সে কোলাজেন কমতে শুরু করে, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায়, দেখা দেয় বলিরেখা ও ঢিলে ভাব।
দামি প্রসাধনী ব্যবহার করলেই সমাধান নয়। বরং নিয়মিত কিছু সহজ অভ্যাসেই ত্বককে ভিতর থেকে সতেজ রাখা সম্ভব। ব্যস্ত জীবনেও এই তিনটি পদ্ধতি সহজে মেনে চলা যায়।
১) স্কিন সাইক্লিং রুটিন
প্রতিদিন একাধিক প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে ৪ দিনের একটি ঘূর্ণায়মান রুটিন মেনে চলুন। এতে ত্বক অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে না এবং প্রতিটি উপাদান কাজ করার সময় পায়।
* প্রথম রাত: মুখ পরিষ্কার করে হালকা স্ক্রাব বা কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন। এতে মৃত কোষ দূর হবে।
* দ্বিতীয় রাত: রেটিনল বা ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করুন বলিরেখা কমাতে।
* তৃতীয় ও চতুর্থ রাত: এই দুই দিন শুধু ভাল মানের ময়েশ্চারাইজ়ার বা হাইড্রেটিং সিরাম ব্যবহার করুন। ত্বককে বিশ্রাম দিন।
২) মুখের যোগাসন ও লিম্ফ্যাটিক ম্যাসাজ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ঢিলে হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত মুখের ব্যায়াম ও হালকা ম্যাসাজ এতে সাহায্য করতে পারে।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে ময়েশ্চারাইজ়ার লাগানোর সময় আঙুলের ডগা বা গুয়াশা স্টোন দিয়ে চোয়াল থেকে কানের দিকে এবং ভ্রু থেকে কপালের দিকে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এতে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ হয়, ফোলা ভাব কমে এবং ত্বক টানটান দেখায়।
৩) সানস্ক্রিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অভ্যাস
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নয়, ভিতর থেকেও প্রয়োজন।
সানস্ক্রিন: সকালে ময়েশ্চারাইজ়ারের উপর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক— ঘরে থাকলেও। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কোলাজেন দ্রুত ক্ষয় করে।
খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিন অন্তত একটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল এবং এক মুঠো ভেজানো বাদাম খান। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
চল্লিশের পরে ত্বকের যত্ন মানেই দীর্ঘ রুটিন নয়। নিয়মিত, সচেতন এবং সঠিক অভ্যাসই পারে বয়সের ছাপ কিছুটা হলেও থামিয়ে রাখতে।
আরও পড়ুন: Insomnia: মোবাইল বন্ধ করলেই ঘুম আসছে না? দ্রুত ঘুমোনোর কিছু অভিনব কৌশল জেনে নিন
Image source-Google