বর্তমান প্রজন্মের বাবা-মায়েরা যেমন সন্তানকে মানুষ করছেন, তেমনই প্রতিদিন নিজেরাও নতুন করে শিখছেন অভিভাবকত্বের পাঠ। চারপাশে উপদেশের ছড়াছড়ি—পরিবার, বন্ধু থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যম—সব জায়গা থেকেই আসছে নানা মতামত। এর মাঝেই নিজেদের মতো করে সন্তান মানুষ করার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই।

 

বলিউডেও তার ব্যতিক্রম নেই। কেউ সন্তানের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, কেউ আবার জনসমক্ষে সন্তানকে স্বাভাবিক জীবনযাপনেই অভ্যস্ত করছেন। এই ভিড়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন আলিয়া ভট্ট ও রণবীর কপূর। তাঁদের কন্যা রাহার জন্মের পর থেকেই তাঁরা অনুসরণ করছেন এক বিশেষ দর্শনভিত্তিক লালনপালন পদ্ধতি, যার শিকড় রয়েছে চিন দেশে।

 

২০২২ সালের নভেম্বরে কন্যাসন্তানের জন্মের পর আলিয়ার জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। মেয়ের যত্ন ও মানসিক বিকাশের বিষয়ে সচেতন এই অভিনেত্রী অনুপ্রাণিত হয়েছেন একটি বই থেকে— The Parent’s Tao Te Ching, যার রচয়িতা William Martin। বইটি আবার প্রভাবিত প্রাচীন চিনা দর্শন Tao Te Ching দ্বারা।

 

এই দর্শনের মূল বক্তব্য—সন্তানকে কঠোর নিয়মে বেঁধে না রেখে, তার মনের কথা শোনা এবং তাকে বোঝার চেষ্টা করা। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সঠিক ও ভুলের বোধ তৈরি করে দেওয়া—এই পথেই এগোতে চান আলিয়া-রণবীর। তাঁদের বিশ্বাস, ‘পারফেক্ট’ সন্তান তৈরির চেয়ে বেশি জরুরি হল এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সন্তান নির্ভয়ে ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল থেকে শেখার সুযোগ পায়।

 

আজকের দিনে সমাজমাধ্যমের প্রভাবে নতুন বাবা-মায়েরা প্রায়শই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। নানা ট্রেন্ড, নানা মতামতের ভিড়ে সঠিক পথ বেছে নেওয়া সহজ নয়। তবে আলিয়ার মতে, সন্তান পালনের ক্ষেত্রে ট্রেন্ড নয়, সবচেয়ে জরুরি হল সন্তানের সঙ্গে গভীর সংযোগ বজায় রাখা। বকাবকি বা চাপ নয়, বরং বোঝাপড়া আর সহানুভূতিই হতে পারে সুস্থ লালনপালনের চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন: Skincare: চল্লিশের পরে ব্যস্ত জীবনে ত্বকের যত্ন? রইল ৩টি সহজ ও কার্যকর উপায়

Image source-Google

By Torsha