ঝাউতলা তিলোত্তমা দুর্গাপল্লি এ বছরও পালন করল স্বাধীনতা দিবস (Jhautala Tilottama Durgapalli Independence Day 2025)।৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের সকাল থেকেই গোটা এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছিল দেশাত্মবোধে।পতাকা উত্তোলনের আগে থেকেই জমায়েত হতে শুরু করেছিলেন এলাকার মানুষ।সকলে অপেক্ষা করছিলেন জাতীয় পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য।সঞ্জীব কুন্ডু ও শম্ভুনাথ চৌধুরীর উদ্যোগে,তিলোত্তমা সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পক্ষ থেকে এদিনের আয়োজন করা হয়।এলাকার নেতৃত্ব,প্রবীণ ও নবীন প্রজন্ম একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তে গোটা পল্লী মুখরিত হয়ে ওঠে করতালি ও দেশাত্মবোধক স্লোগানে।এরপর সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।উপস্থিতদের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে নেতাজির আত্মত্যাগ,সংগ্রাম এবং দেশের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসার স্মৃতি।

উদ্যোক্তারা জানান,-গত নয় বছর ধরে তাঁরা একইভাবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালন করে আসছেন।এটি শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়,বরং স্থানীয় মানুষকে একসূত্রে বেঁধে রাখার এক বিশেষ প্রয়াস।প্রতিবছর এদিনের অপেক্ষায় থাকেন পল্লীবাসীরা।শুধু পতাকা উত্তোলন নয়,দেশাত্মবোধক গান,কবিতা আবৃত্তি,বক্তৃতা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভরে ওঠে অনুষ্ঠান। শিশু থেকে প্রবীণ—প্রত্যেকে নিজের মতো করে অংশ নেন এই উদযাপনে।

এদিনের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল মাতৃভাষা রক্ষার বার্তা।উদ্যোক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানালেন,স্বাধীনতার মর্ম কেবল পতাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধ নয়।এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আগলে রাখার দায়িত্ব।তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে এক দৃঢ় আহ্বান—বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য।স্বাধীনতার ৭৯ বছর (Jhautala Tilottama Durgapalli Independence Day 2025) পরেও বাংলার মাটিতে বাংলার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সমান জরুরি।

অনুষ্ঠানের আবহ ছিল আবেগে ভরপুর।দেশাত্মবোধক সঙ্গীত গেয়ে সবাই স্মরণ করলেন স্বাধীনতার সংগ্রাম,শহিদদের আত্মত্যাগ এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার অঙ্গীকার।শিশু-কিশোরদের কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান অনুষ্ঠানের আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।বক্তৃতায় উঠে আসে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ করার বার্তা।উপস্থিত অতিথিরা জানান,-স্বাধীনতা মানে শুধু অতীতের স্মৃতি নয়,স্বাধীনতার দায়িত্বও বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাঁধে।

জাতীয় পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে এলাকার মানুষ একসঙ্গে অঙ্গীকার করেন—দেশকে ভালোবাসা,সমাজকে এগিয়ে নেওয়া এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করার।তাই দিনটি হয়ে ওঠে শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক আবেগঘন স্মরণোৎসব।স্বাধীনতার স্মৃতিচারণের সঙ্গে যুক্ত হলো আগামী দিনের প্রতিজ্ঞা।ঝাউতলা তিলোত্তমা দুর্গাপল্লির এই আয়োজন প্রমাণ করে দিল,স্বাধীনতার প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে একতা,দেশপ্রেম এবং সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে।

 

আরো দেখুন:Teghoria Bayam Sangha social work:৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে তেঘরিয়া ব্যায়াম সংঘের মানবিক উদ্যোগ!বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি অপারেশন শিবিরে উপচে পড়া ভিড়