স্বাধীনতার ৭৯তম বর্ষপূর্তির (79th Independence Day) প্রথম প্রহর।রাত তখনও গভীর, কিন্তু তিথঙ্কর কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রাঙ্গণ যেন আলো আর দেশাত্মবোধের আবেগে ভরে উঠেছে।ঠিক মধ্যরাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার শুভ সূচনা করলেন বিধাননগর পৌরনিগমের চেয়ারম্যান ও তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। তাঁর পাশে ছিলেন তৃণমূলের এস.সি ও ও.বি.সি সেলের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক অমরনাথ প্রসাদ (Amarnath Prasad)।স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে এই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির বাসিন্দারা, প্রবীণ,তরুণ-তরুণী,শিশু এবং আশপাশের এলাকার বহু মানুষ। পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গেই বাজল জাতীয় সংগীত, আর আকাশ ভরে উঠল দেশাত্মবোধের সুরে। পরে সবাই একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে স্বাধীনতার আনন্দ ভাগ করে নিলেন।

পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সব্যসাচী দত্ত ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর হওয়া অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি কেন্দ্রীয় সরকার এই অত্যাচার বন্ধ না করে, তবে গোটা দেশ আবারও প্রত্যক্ষ করবে একুশে ফেব্রুয়ারির মতো ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন দিবস। বাংলার মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত।” তাঁর কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের আহ্বান। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার অর্থ শুধুমাত্র শত্রুর হাত থেকে মুক্তি নয়, বরং দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এই মঞ্চ থেকেই অমরনাথ প্রসাদও জানিয়ে দেন তাঁর ঐক্যের বার্তা। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কেবল বিরোধী শাসনের অবসান নয়, বরং সকলের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। আজ আমাদের প্রয়োজন ভেদাভেদ ভুলে একসাথে এগিয়ে যাওয়া।” তাঁর মতে, বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার লড়াই শুধুমাত্র বাংলার লড়াই নয়, বরং গোটা দেশের গণতান্ত্রিক চেতনার লড়াই।

গভীর রাতের আকাশের নিচে উড়তে থাকা তেরঙা যেন মনে করিয়ে দিল— স্বাধীনতার অঙ্গীকার শুধু একটি দিনের নয়, বরং প্রতিটি দিনের। দেশাত্মবোধে ভরপুর এই অনুষ্ঠান শেষে দেশপ্রেমের গান, আবেগঘন বক্তৃতা এবং সবার মিলিত অংশগ্রহণে সেই রাত রূপ নিল এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তে। এই প্রথম প্রহরের পতাকা উত্তোলন যেন নতুন করে জাগিয়ে তুলল স্বাধীনতার শপথ— দেশের মর্যাদা, সংস্কৃতি ও মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই চলবে, যতদিন প্রয়োজন।

 

আরো দেখুন:Digha Jagannath Temple: দিঘার জগন্নাথধামে প্রথম জন্মাষ্টমী! দেবভক্তি, দীপ্তি আর ভক্তিমূলক আয়োজনের এক অনন্য সন্ধিক্ষণ