রাজ্যের দুই জেলা—ভাঙড় ও মালদহ।রাতের অন্ধকারে গুলির শব্দ!আর সকালে খবর,নিহত দুই তৃণমূল নেতা। এক রাতের ব্যবধানে এমন ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে ফের হিংসার আঁচ ছড়িয়ে দিল।এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম(Firhad Hakim on BJP)।পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও,এই খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছেন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব।পরোক্ষে নিশানা করা হচ্ছে বিজেপিকেই।বৃহস্পতিবার রাতে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি রাজ্জাক খাঁ দলীয় বৈঠক সেরে বাড়ি ফিরছিলেন।আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো হয় একের পর এক গুলি।স্থানীয়দের অভিযোগ,গুলি চলার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর উপর ফের হামলা চালানো হয়।ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন রাজ্জাক।তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে,চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।গোটা এলাকায় মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়ায়।এরপরও পরিস্থিতি স্থিত হয়নি।ওই রাতেই মালদহের কালিয়াচকে খুন হন আরও এক তৃণমূল নেতা আবুল কালাম আজাদ।তিনি একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।অভিযোগ,সেখানেই তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়।
এক রাত,দুই জেলা,দুই রাজনৈতিক খুন—অভূতপূর্ব এমন ঘটনার জেরে রাজ্য রাজনীতি ফের প্রবল চাপের মুখে।পুলিশ দুই ক্ষেত্রেই পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে স্থানীয় কয়েকজনকে।খতিয়ে দেখা হচ্ছে গোষ্ঠী সংঘর্ষ নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনও যোগ রয়েছে কিনা।এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim on BJP) বলেন,-“তৃণমূল খুনে বিশ্বাস করে না।আমাদের আত্মত্যাগের পথেই বাংলার মানুষ আমাদের ক্ষমতায় এনেছে।নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ‘বদলা নয়,বদল চাই’।আমরা নতুন বাংলা গড়তে চাই।কিন্তু কেউ কেউ বাংলায় হিংসার সংস্কৃতি আমদানি করতে চাইছে।ধর্মের নামে উসকানি দিয়ে গুজরাটের হিংসার ছবিকে বাংলায় বসাতে চাইছে।”
বিজেপির নাম না করে এই মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে,স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন মন্ত্রী।ফিরহাদের কণ্ঠে ছিল উদ্বেগের সুরও।বলেন,-“বাংলা হিংসায় বিশ্বাস করে না।বাংলা চৈতন্যর বাংলা।আমরা বলি,‘মেরেছো কলসির কানা,তা বলে কি প্রেম দেব না!’বাংলায় প্রেম, সহিষ্ণুতা আর ঐক্যের ইতিহাস রয়েছে। তা কলুষিত করতে দেওয়া হবে না।”তবে বিজেপির তরফে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত মেলেনি।এই দুই খুনের ঘটনায় শাসকদলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে কি না,তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা।বিরোধীদের বক্তব্য,দলের ভিতরকার অসন্তোষেরই রক্তাক্ত বহিঃপ্রকাশ এই হত্যাকাণ্ড।যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে।এখন দেখার,তদন্ত কতদূর এগোয়,এবং এই খুনের পেছনে থাকা সত্যি কাদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলে প্রশাসন।আপাতত রাজনৈতিক উত্তাপেই জ্বলছে ভাঙড় আর মালদহ।