হাতিয়ারা (Hatiara) সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে এবং সৃজন কান্তি নাথের (Srijan Kanti Nath) ব্যবস্থাপনায় রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় (Rabindra Nazrul Sandhya) ফুটে উঠল সম্প্রীতির ছোঁয়া। বাংলা সাহিত্যের দুই কিংবদন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাজী নজরুল ইসলাম—তাঁদের কালজয়ী সৃষ্টি যেন নতুন করে প্রাণ পেল রবিবার পূর্বাচল কো-অপারেটিভ নবকুমার সদনের মঞ্চে। নৃত্য,সঙ্গীত,আবৃত্তি যেনো দর্শক-শ্রোতাদের মনকে এক গভীর প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিয়েছিল।

এই মনোজ্ঞ সন্ধ্যার মূল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন বিধাননগর পৌরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি, সৃজন কান্তি নাথ (Srijan Kanti Nath)। তাঁরই স্বপ্ন আর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্ভব হয়েছিল। তবে এই সন্ধ্যাটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছিল একটি ভিন্ন কারণে—সেদিনই ছিল সৃজন কান্তি নাথের শুভ জন্মদিন! একদিকে এত বড় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, অন্যদিকে নিজেদের প্রিয় সভাপতির জন্মদিন—এই দুই আনন্দ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। কর্মীবৃন্দদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো; কেক কেটে মহাসমারোহে পালন করা হয় তাঁর জন্মদিন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল জন্মদিনের এই উৎসবমুখর পরিবেশ, যা গোটা অনুষ্ঠানকেই এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিল।

এই সফল আয়োজনের পেছনে ছিল বহু মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসার ছোঁয়া। পণ্ডিত শঙ্কর ভট্টাচার্য তাঁর মূল্যবান সহযোগিতা দিয়ে এই অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছেন। এছাড়াও, অমল ঘোষ, বিনয় চক্রবর্তী, স্বরূপ দাস, পৃথা ঘোষ এবং পারমিতা ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকেই তাঁদের উদার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা সত্যিই স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সৃজন কান্তি নাথ শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেননি, বরং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। এটি ছিল তাঁর সংস্কৃতিপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একইসাথে, তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞারও পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, রাজারহাট নিউটাউনে বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জির (Tapas Chatterjee) বিকল্প কেউ হতে পারে না—যা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর বার্তা বহন করে। এই রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা একদিকে যেমন শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার প্রকাশ, তেমনই অন্যদিকে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেরও এক জোরালো প্রমাণ।

 

আরো দেখুন:Amitabh Bachchan: আর ফোনে শোনা যাবে না অমিতাভের কণ্ঠ, সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র