রাজ্য রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার পারদ। বিধানসভায় চার বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করার ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সেই চর্চার মধ্যেই হঠাৎ করেই বিধানসভার বাইরে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকা চার সাসপেন্ড বিজেপি বিধায়ক— অগ্নিমিত্রা পল, মনোজ ওঁরাও, দীপক বর্মন ও শংকর ঘোষের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবরও নেন তিনি।

তাঁদের সঙ্গে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “আমি শুনেছি আমাদের চারজন বিধায়ককে অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমনকি তাঁদের শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং নিন্দনীয় ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। বিরোধী দলের বিধায়কদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই ধরনের আচরণ বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। আমরা আগে কখনও দেখিনি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই বিধায়কদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়।”

এদিন স্পষ্ট ভাষায় বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানান, “তৃণমূল কংগ্রেস কোনও অগণতান্ত্রিক আচরণ বরদাস্ত করে না। সেটা যে কোনও দলের বিধায়কের ক্ষেত্রেই হোক না কেন।” তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে সহাবস্থান। বিজেপি বিরোধী শিবির হলেও, বিধানসভায় তাঁদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া আমরা মেনে নেব না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে টানাপোড়েনের আবহে শাসকদলের এই অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাঁদের মতে, এই ইস্যুতে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে শাসক ও বিরোধীপক্ষের সংঘাত আগামী দিনে আরও চরমে উঠতে পারে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান বিরোধী রাজনীতিতে একটি বড় বার্তা বলেও অনেকে মনে করছেন।

 

আরো দেখুন:Sourav Ganguly: সৌরভের রাজনীতিতে যোগদান? ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের জল্পনা, কিন্তু ‘মহারাজ’ জানালেন নিজের অবস্থান