প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রথিতযশা আইনজীবী সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় (Satyabrata Mukherjee)।দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।শুক্রবার সকালে বালিগঞ্জের বাড়িতে তিনি মারা যান।বয়স হয়েছিল ৯০। রাজ্য রাজনীতিতে ‘‌জলু’‌ নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি।জলুবাবুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

 

প্রবীণ নেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন টুইটে লিখেছেন, ‘প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শ্রী সত্যব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি ব্যথিত। জুলুবাবু নামেই তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের একজন সাংসদ ও মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাই। তাঁর আত্মা চির শান্তি লাভ করুক। ওম শান্তি।’

এছাড়াও প্রবীণ নেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন নদিয়া জেলা তৃণমূল নেতা তথা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। বলেন, ”জলুদার মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকলেও ওঁর স্নেহ থেকে কখনও বঞ্চিত হইনি। নদিয়া এক রাজনৈতিক অভিভাবক হারাল।” সিপিএমের নদিয়া জেলার সম্পাদক সুমিত দে বলেন, ”রাজনৈতিকভাবে তাঁর মতাদর্শের বিরোধিতা করেছি। কিন্তু ব্যক্তি সত্যব্রত সবার কাছেই প্রিয় ছিলেন।”

প্রসঙ্গত,১৯৩২ সালের ৮ মে সিলেট (এখন বাংলাদেশ)-এ জন্ম হয়েছিল সত্যব্রতের। সেখান থেকে চলে আসেন নদিয়ার কালীগঞ্জের পাগলাচণ্ডী গ্রামে। বর্ধিষ্ণু পরিবারের সন্তান সত্যব্রত পরিবারের অগ্রজদের মতো বেছে নেন আইনি পেশা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। দেশের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ছিলেন সত্যব্রত।আইনজীবী হিসাবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে বাংলার বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদে বসেছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁকে সরিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছিলেন রাহুল সিংহ। অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। ২০০০ থেকে ২০০২ সালের জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে ২০০৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

 

আরো পড়ুন:Madhyamik Exam:মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন তৃণমূলের অনুষ্ঠানে বাজল মাইক,শুরু রাজনৈতিক তরজা