আইআইটি বম্বের পওয়াই ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের আন্দোলনে রবিবার গভীর রাতে নয়া মোড়। দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর পর বিক্ষোভে নেমেছিলেন পড়ুয়ারা। তাঁদের তরফে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল ১৮ দফা দাবিপত্র। রবিবার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর সেই দাবিপত্রে সই করেন আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর অধ্যাপক শিরীষ কেদারে। তবে সই করার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি দাবি তাৎক্ষণিক ভাবে কার্যকর হয়ে গিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করা হবে।

গত শুক্রবার আইআইটি বম্বের হস্টেলে দ্বিতীয় বর্ষের বি-টেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যু হয়। তিনি ‘এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর আগে মিড-সেমিস্টার পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির পরেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। সাহিলের মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং পরীক্ষার সময় দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি ওঠে।

সাহিলের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এফআইআরে অধ্যাপক দুল্লার নাম রয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও জনজাতি (SC/ST) আইনের ধারাতেও মামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে রয়েছে।

অন্য দিকে, আইআইটি বম্বে ফ্যাকাল্টি ফোরাম অধ্যাপক দুল্লার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, পরীক্ষার হলে তিনি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়টি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে জানিয়েছিলেন। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর পক্ষেই তারা সওয়াল করেছে।

পড়ুয়াদের ১৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সাহিলের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত। সেই তদন্তের অন্তর্বর্তী রিপোর্ট ৩০ সেপ্টেম্বর এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। ডিরেক্টর, ডিন অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স-সহ শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে ওপেন হাউস করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়াও অধ্যাপকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি, শিক্ষক ও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং পরিষেবার উন্নতি এবং শাস্তিমূলক কমিটির কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের কথাও বলা হয়েছে।

পড়ুয়াদের প্রস্তাবিত দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ছাত্র, শিক্ষক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বাইরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন। আইআইটি বম্বে হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত করার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরিষেবার দাবিও জানানো হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবিগুলি বাস্তবায়নের লিখিত পরিকল্পনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়েছে।

১৮ দফা দাবিতে সইয়ের পরেও পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। সোমবার ওপেন হাউসে প্রশাসন চুক্তির বিস্তারিত বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরবে বলে জানা গিয়েছে। তার পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন পড়ুয়ারা। একই সঙ্গে আইআইটি বম্বের বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সাহিলের মৃত্যুর তদন্তও চলছে।

আরও পড়ুন: ‘ভোটের ফল উল্টো হলে আমিও ব্যান হতাম’, অনির্বাণকে নিয়ে বিস্ফোরক দেব

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *