দিল্লির বঙ্গভবন ঘিরে পুলিশি তৎপরতাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের আগে সকালে বঙ্গভবন চত্বরে (Bangabhaban controversy) দিল্লি পুলিশের উপস্থিতি এবং নজরদারি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে থাকা প্রতিনিধিদের উপর নজরদারি চালানো হয় এবং ঘরে ঘরে তল্লাশির চেষ্টা করা হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি এখনও সামনে আসেনি।
ঘটনাস্থলেই সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমাদের বাধা দিচ্ছেন কেন? আমরা তো এখানে আন্দোলন করতে আসিনি। আন্দোলন করতে এলে বহু মানুষ নিয়ে আসতে পারতাম। এসআইআর আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের পরিবার সঙ্কটে রয়েছেন। যাঁদের নিয়ে এসেছি, তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানাবেন। আটকালে লাভ হবে না। অবশ্য আপনাদের দোষ দিই না, যাঁরা আপনাদের চালাচ্ছেন, তাঁরা স্বৈরাচারী।”
তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন সংক্রান্ত ইস্যুতে তাঁদের কণ্ঠ রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে অন্যভাবে দেখছে। বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশের মতে, পুরো ঘটনাই রাজনৈতিক নাটকের অংশ।
সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, “নাটকবাজি আনলিমিটেড। দিল্লির বাহিনী ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে— এ নিয়ে সন্দেহ নেই। এসআইআর-এর নামে যা চলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসন, ছাত্র-যুব সমস্যার বদলে এখন শুধু এসআইআর নিয়েই রাজনীতি হচ্ছে। কলকাতায় শুনানি প্রায় শেষ, এখন দিল্লি যাওয়ার প্রয়োজন পড়ল কেন?”
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর বক্তব্য আরও সরাসরি। তাঁর অভিযোগ, “এ সব পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে, যাতে রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি হয়। এমন পরিবেশ বানানো হচ্ছে যেন মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্র ভয় পাচ্ছে। এটা আসলে পারস্পরিক সুবিধার রাজনীতি।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনায় ‘সমঝোতা’ বা ‘সেটিং তত্ত্ব’ নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে জেনেও কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হল? এর নেপথ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া রয়েছে বলেও বিরোধীদের দাবি।
ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট, দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। তবে নির্বাচন কমিশনের বৈঠককে (Bangabhaban controversy) ঘিরে এই ঘটনাই যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই যায়।