কলকাতা (Kolkata) হোক কিংবা হাওড়া রাজনীতির ময়দানে অধীর চৌধুরি (Adhir Chowdhury) মানেই চর্চা। তবে এবার তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগ উঠল হাওড়া গ্রামীণ জেলা কংগ্রেসের (Congress) তরফে। জেলা নেতৃত্বকে না জানিয়ে জনসভা আয়োজনের অভিযোগে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা এআইসিসির ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরি এবং প্রাক্তন হাওড়া জেলা সভাপতি পলাশ ভাণ্ডারির বিরুদ্ধে সরাসরি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে নালিশ জানানো হয়েছে।
হাওড়া গ্রামীণ জেলা কংগ্রেস সভাপতি শেখ আলম দেইয়ান একটি লিখিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন লোকসভার দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে। সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন, রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে ‘সমান্তরাল সংগঠন’ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওই চিঠির অনুলিপি প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
জেলা কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী রবিবার উলুবেড়িয়ার বাউড়িয়ায় একটি জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এই সভার আয়োজক হিসেবে নাম রয়েছে প্রাক্তন অবিভক্ত হাওড়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি পলাশ ভাণ্ডারির। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই কর্মসূচির বিষয়ে জেলা সভাপতি শেখ আলম দেইয়ান কিংবা তাঁর নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটির কোনও সদস্যই আগে থেকে কিছু জানতেন না। এলাকায় পোস্টার পড়ার পরই বিষয়টি নজরে আসে জেলা সভাপতির।
এই পরিস্থিতিতেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে শেখ আলম সরাসরি সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক কাঠামো উপেক্ষা করে এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে শুধু বিভ্রান্তিই নয়, কংগ্রেসের সাংগঠনিক ঐক্যও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে তাঁর মত।
শেখ আলম দেইয়ান বলেন, “আমি যখন হাওড়া গ্রামীণ জেলার সভাপতি, তখন আমাকে বা জেলা নেতৃত্বকে না জানিয়ে প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরি এখানে সভা করতে আসছেন। সেই সভার আয়োজক আবার প্রাক্তন জেলা সভাপতি। এটা কীভাবে সম্ভব?” তিনি আরও জানান, প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছেও এই সভা সম্পর্কে কোনও আগাম তথ্য ছিল না।
জেলা সভাপতির দাবি, দলীয় নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বিষয়টি কেন ঘটছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছ থেকেই তিনি জানতে চান। এখন দেখার, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে।
আরও পড়ুন: SIR: ‘সব কি কমিশন ঠিক করবে?’ SIR শুনানিতে বিজেপি ও শাহকে তীব্র আক্রমণ মমতার