ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের কড়া নজরদারির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট যে যে নথি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে, সেগুলি খুঁটিয়ে যাচাই করতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম যেন কোনওভাবেই বাদ না পড়ে, সেই দিকেও বিশেষভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে জেলাশাসকদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় নবান্নে। সেই বৈঠকে কিছুক্ষণের জন্য উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) স্পষ্ট নির্দেশ দেন, এসআইআর-এর কাজ চললেও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পরিষেবা যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে কোনওভাবেই বাধাপ্রাপ্ত না হয়। প্রশাসনিক কাজের গতিতেও যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও জেলাশাসকদের উপর বর্তেছে। যাঁদের ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ধরা পড়ছে, তাঁদের নাম গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস, মহকুমা অফিস ও শহরের ওয়ার্ড অফিসে টাঙানোর নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি নথি জমা দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে আলাদা কেন্দ্র খোলার কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড-সহ নির্দিষ্ট নথি গ্রহণের পর রসিদ দেওয়া হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও, নির্দিষ্ট দিনে কেউ শুনানিতে হাজির হতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ রাখা, এবং যাঁরা শারীরিক কারণে শুনানি কেন্দ্রে আসতে অক্ষম, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের আশ্বস্ত করে জানান, এই গোটা প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে।
আরও পড়ুন: Adhir Chowdhury: হাওড়ায় অধীরের কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক! ‘অনধিকার প্রবেশ’-এর অভিযোগে সরব জেলা নেতৃত্ব