বাঙালি–অবাঙালি বিভাজন ঘিরে ফের রাজ্য রাজনীতিতে তপ্ত পরিস্থিতি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীজপুরের তৃণমূল (TMC) বিধায়ক সুবোধ অধিকারী। তার অভিযোগ, “বাঙালি–অবাঙালি ভেদাভেদ তৈরি করে নোংরা রাজনীতি করতে চাইছেন শুভেন্দু।”

শুক্রবার গারুলিয়ার আজাদ হিন্দ ময়দানে ছটপুজোর অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে একের পর এক তৃণমূল নেতা–বিধায়কের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন। তার দাবি, “তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে হিন্দিভাষীর দল বলে অপমান করছে।” সেই সুরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বোলাগড়ের বিধায়ক যখন ‘এক বিহারি, সব বিমারি’ বলেন, তখন কি তা বিহারিদের অপমান নয়?”

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে সুবোধ অধিকারী বলেন, “আমার মা একজন হিন্দিভাষী অবাঙালি মহিলা। শুভেন্দু অধিকারীর কথায় শুধু আমিই নয়, আমার মা-ও অপমানিত হয়েছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে, আমি তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব।”

তৃণমূল বিধায়ক আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা বলেন,‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আমি সেই ভাবনাকেই মানি। বাঙালি হোক বা অবাঙালি, সবার উৎসবে আমি পাশে থাকি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী মানুষের মধ্যে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা করছেন। সেটাই তার রাজনৈতিক কৌশল।”

বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমাজে বিভাজন তৈরি করছেন; অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তৃণমূলই হিন্দিভাষী মানুষদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। ফলে ছটপুজো মঞ্চ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন, সর্বত্র এখন বিতর্কের কেন্দ্রে শুভেন্দু বনাম সুবোধ অধিকারীর এই মুখোমুখি সংঘাত।

আরও পড়ুন: SIR: নির্বাচনের নামে শিক্ষক নিগ্রহ? প্রশ্নের মুখে কমিশনের নিরপেক্ষতা

 

By Sk Rahul

Senior Editor of Newz24hours