নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় বিতর্ক। রাজ্যের প্রায় ৬০০ বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-কে শোকজ নোটিশ ধরাল কমিশন। অভিযোগ, তাঁরা কমিশনের কাজে অংশ নিতে অনিচ্ছুক। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এই BLO-রা নিযুক্ত থাকেন। কিন্তু বর্তমানে, বিশেষ করে শিক্ষক মহলে, এই দায়িত্ব পালনে অনীহার বাতাবরণ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।
কমিশনের তরফে ধাপে ধাপে ৬০০ BLO-কে কেন তাঁরা SIR প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইছেন না, তার কারণ স্পষ্ট করে জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ, অনেক শিক্ষক-কর্মী যাঁরা BLO হিসেবে নিযুক্ত, তারা স্কুলের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটার কথা তুলে ধরে এই কাজে অংশ নিচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, তাঁরা নিজ নিজ স্কুলে একমাত্র শিক্ষক বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, ফলে স্কুল বন্ধ রেখে বা পঠনপাঠনের ক্ষতি করে এই দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সংগঠনগুলিও সরব। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “SIR নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু স্কুল বন্ধ রেখে এই প্রক্রিয়া চালানো চলবে না। যাঁরা শিক্ষাদানেই মূলত নিয়োজিত, তাদের জোর করে প্রশাসনিক কাজে ঠেলে দেওয়া অনুচিত।”
এই ইস্যুতে রাজনীতিও তুঙ্গে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যের শিক্ষকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শাসক দল সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করছে, তাই অনেকেই এই কাজে এগোতে চাইছেন না।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী এই শোকজের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “বেছে বেছে শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে। কমিশনের হাতে এই ধরনের একতরফা শোকজ করার আইনগত অধিকার নেই।”
এদিকে আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে BLO নিয়োগ নিয়েও। অভিযোগ, অনেক জেলায় নিয়ম না মেনে BLO নিয়োগ হয়েছে। কোথাও সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে পার্শ্ব শিক্ষিকাদের BLO-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের কাছে জানতে চেয়েছে মুখ্য নির্বাচন অফিসারের দফতর।