লকডাউনের সময়েও চাকরিপ্রার্থীদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল নিয়োগপত্র! এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। আলিপুরে সিবিআইয়ের (CBI) বিশেষ আদালতে সোমবার এক সাক্ষীর বয়ানে উঠে এসেছে, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও শান্তিপ্রসাদ সিংহের নির্দেশেই সেই নিয়োগপত্র বিলি করা হয়েছিল। আরটিআইয়ের নাম ব্যবহার করে সেই নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলেও দাবি সাক্ষীর।
সাক্ষী জানান, “কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়াই ছিল আমার দায়িত্ব। ২০১৮ সালে প্রায় পাঁচ থেকে ছ’হাজার নিয়োগপত্র তৈরি হয়েছিল। বোর্ডের সভাপতির সই স্ক্যান করে সেই নিয়োগপত্র ইস্যু করা হতো।” প্রথমে বোর্ডের সভাপতি ছিলেন ড. পারমিতা রায়, পরে দায়িত্ব নেন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মুহূর্ত আসে যখন সাক্ষী বলেন—“লকডাউন চলাকালীন একদিন কল্যাণময়বাবু আমাকে ডেকে পাঠান। সেখানে ছিলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান শান্তিপ্রসাদ সিংহ। বলা হয়, কিছু নিয়োগপত্র আগে দিতে হবে, কারণ এটি ‘হাই প্রোফাইল আরটিআই বিষয়’। সমরজিৎ আচার্যর কাছ থেকে ডেটা এনে নিয়োগপত্র বিলির নির্দেশ দেওয়া হয়।” কর্মীর অভাব থাকায় সাক্ষী নিজেই নতুন বিল্ডিংয়ে গিয়ে সেই নিয়োগপত্রগুলি চারজন কর্মীর হাতে তুলে দেন বলে জানান।
সিবিআইয়ের তিনটি মামলায় এই সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, আর একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তি আটকে আছে আরও চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত। সোমবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজিরা দেন পার্থ।
অন্যদিকে, ইডির মামলায় পাঁচ লক্ষ টাকার বন্ড ইতিমধ্যেই বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—এই সাক্ষ্যের পর আরও চাপে পড়তে পারেন তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী। আদালত জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার আরও দু’জনের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: SIR: নির্বাচনের নামে শিক্ষক নিগ্রহ? প্রশ্নের মুখে কমিশনের নিরপেক্ষতা