এক রাতের অতিবৃষ্টিতে ভেসে গেল কলকাতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) স্বীকারোক্তি, ‘‘এই জীবনে এমন বৃষ্টি দেখিনি!’’ আর সেই অতিবৃষ্টির অভিঘাতে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে মহানগর। এখনও পর্যন্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮ জনের। জলমগ্ন রাস্তাঘাট, থমকে যাওয়া জনজীবন, আর কোথাও কোথাও মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে গলিপথ। এই অবস্থার মধ্যেই আজ সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানালেন পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’। যদিও সেই নিয়ন্ত্রণের দাবি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় বাস্তব।
মেয়র বলেন, ‘‘এটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই আমরা করেছিলাম, কিন্তু এবার তো ৩০০ মিলিমিটার ছাড়িয়েছে!’’ দেহরাদূন বা জম্মুর মেঘভাঙা বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা টানলেন তিনি। পুরকর্মীরা দিনরাত খেটে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি। তবে, সমস্যা একটাই জল নামছে না। পাম্প বসিয়ে জল তোলার চেষ্টা করলেও, জল ফিরছে। অর্থাৎ ব্যাকফ্লো।
এই ব্যাকফ্লো-এর যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘জল সরাতে গিয়ে আবার জল ফিরে আসছে। এটাও একটা নতুন চ্যালেঞ্জ।’’ এই ব্যাখ্যা যদিও নিকাশি ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিচ্ছে। আর এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন যেখানে বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ হয় নিকাশি প্রকল্পে, সেখানে কেন শহর এতটা অপ্রস্তুত?
অন্যদিকে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর ঘটনায়ও মেয়রের ব্যাখ্যা, ‘‘আগে ল্যাম্পপোস্টে হাত দিলে কারেন্ট লাগত। এখন তো জলেই বিদ্যুৎ নামছে।’’ একে ‘নতুন পরিস্থিতি’ বলেই দায় এড়াতে চেয়েছেন তিনি। প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সমালোচনার জবাবে ফিরহাদ বলেন, ‘‘আপনার সময়ে জল জমত না? সেই সময় তো জলসংকট ছিল! কেআইআইপি-র কাজ তখনই থেমে ছিল।’’