মহালয়ার (Mahalaya) ঠিক পরের দিন, প্রতিপদে খিদিরপুর ২৫ পল্লীর পুজো উদ্বোধনে গিয়ে ফের একবার নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আদর্শের পরিচয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উপহারস্বরূপ তার বাবা ও মায়ের একটি ডিজিটাল আর্ট পেয়ে প্রকাশ্যেই তিনি বলেন, “আমি চাই না আমার পরিবারের কাউকে নিয়ে প্রচার হোক।” সোজাসাপটা, স্পষ্ট বক্তব্য ব্যক্তি নয়, পরিবারের ভাবমূর্তি নয়, বরং নিজের কাজের মাধ্যমেই মানুষের মনে জায়গা তৈরি করতে চান তিনি।
প্রাপ্ত ছবিটি দেখে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, “এই ছবিটি AI বা ডিজিটাল আর্ট দিয়ে বানানো। এটা আমার মায়ের অরিজিনাল ছবি নয়।” উদ্যোক্তারা বিষয়টি ব্যাখ্যা করার পরও তিনি বলেন, “ডিজিটাল আর্ট হলেও, এটা আমার নিজের সংগ্রহে রাখার মতো নয়। আমি এসব করি না।” এমনকি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তাঁর অফিসেও এর জন্য কোনও জায়গা নেই। তিনি পরামর্শ দেন, ছবিটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দিতে বা এমন কাউকে দিয়ে দিতে যিনি এই ধরনের উপহারকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করবেন।
এই ঘটনায় উঠে আসে এক বড় বার্তা, রাজনীতিতে আত্মপ্রচার কিংবা পরিবারের ভাবমূর্তি তুলে ধরে জনসমর্থন কুড়োনোর পথে হাঁটতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, “আমি কোনওদিন আমার বাবা-মাকে সামনে এনে কিছু করিনি। আমি চাই না আমার পরিবারের কেউ প্রচারের অংশ হন।” এমন মন্তব্য একদিকে যেমন তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যবোধের পরিচয় দেয়, তেমনই রাজনৈতিক দিক থেকেও ইঙ্গিতবাহী। যখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান এক ব্যতিক্রমী বার্তা দেয় — তিনি পরিবার নয়, নীতিকে অগ্রাধিকার দেন।