পুজোর আগে চুলের যত্ন (Hair Care) নেওয়া জরুরি। কারণ নিষ্প্রাণ, রুক্ষ বা ঝরে পড়া চুলে যতই সাজগোজ করুন না কেন, লুক সম্পূর্ণ হয় না। যদি চান ঘন, লম্বা ও জেল্লাদার চুল, তবে সাত দিন ধরে বিশেষ নিয়মে কেশচর্চা করতে হবে। প্রতিদিন একেকটি ভিন্ন পদ্ধতি চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগাবে এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলবে।

১ম দিন – অ্যালো ভেরা মাস্ক

অ্যালো ভেরা জেল ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদানে ভরপুর। এটি খুশকি দূর করে, স্ক্যাল্পকে স্বাস্থ্যবান রাখে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রথম দিনে চুল ও মাথার ত্বকে ভালো করে অ্যালো ভেরা জেল মালিশ করে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২য় দিন – কাঁচা পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়ায়, ফলে নতুন চুল গজায় এবং ঘনত্ব বাড়ে। দ্বিতীয় দিনে মাথায় ভালোভাবে পেঁয়াজের রস মেখে আধ ঘণ্টা রেখে ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে নিন।

৩য় দিন – নারকেল তেলের মালিশ

তৃতীয় দিনে চুলকে আরাম দিন হালকা গরম নারকেল তেলে। ভালো করে মালিশ করে সারা রাত রেখে দিতে পারেন, অথবা কয়েক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। এতে চুল নরম, মজবুত ও উজ্জ্বল হবে।

৪র্থ দিন – চাল ধোয়া জল

চাল ধোয়া জলে রয়েছে চুলের জন্য উপকারী খনিজ। শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের পর চুল ধোয়ার শেষ ধাপে চাল ধোয়া জল ব্যবহার করুন। চাইলে এতে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুল মসৃণ হবে এবং ভাঙা চুল কমবে।

৫ম দিন – আমলকি-কারিপাতার তেল

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ আমলকি ও কারিপাতা দিয়ে তৈরি তেল চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করলে চুল আরও ঘন হবে।

৬ষ্ঠ দিন – গ্রিন টি রিন্স

গ্রিন টিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। গ্রিন টি ঠান্ডা করে চুল ধোয়ার পর ব্যবহার করুন। এতে চুল ঝলমলে হবে।

৭ম দিন – জবাফুলের মাস্ক

চুল ঝরা ও পাকা চুল কমাতে জবাফুল দারুণ কার্যকর। কয়েকটি জবাফুল ফুটিয়ে তার রসের সঙ্গে নারকেলের দুধ মিশিয়ে মাথায় মালিশ করুন। ২০ মিনিট রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে খুশকি দূর হবে, চুল কালো হবে এবং পড়া কমবে।

এই সাত দিনের নিয়মিত যত্ন (Hair Care) চুলকে শুধু ঝলমলে করবে না, বরং ভিতর থেকে মজবুতও করে তুলবে। পুজোয় আপনার কেশসজ্জা তাই হবে আরও আকর্ষণীয়।

 

By Torsha