ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের জন্য নবান্নের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এই ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে সপ্তম দফায় সংঘাত চরমে।
মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) হঠাৎই বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দপ্তরে হাজির হতে বলা হয় ই-মেলের মাধ্যমে। সময়ের ঠিক আধ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ কমিশনের দপ্তরে পৌঁছন তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক, যেখানে কমিশনের তরফে কড়া সুরে জানতে চাওয়া হয় — কেন এখনও চার অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সাসপেনশন ও এফআইআর হয়নি?
সংশ্লিষ্ট চার আধিকারিক হলেন বারুইপুর পূর্বের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, সহকারী ইআরও তথাগত মণ্ডল, ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এইআরও সুদীপ্ত দাস। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে অভিযুক্তদের মধ্যে। কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও, রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র সুদীপ্ত দাস ও সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এফআইআর ও সাসপেনশন না করার যুক্তি হিসেবে নবান্ন জানিয়েছে, এতে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়তে পারে। তবে কমিশনের বক্তব্য একেবারেই স্পষ্ট: আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনও রকম ছাড় নেই।
বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Pant) কমিশনকে জানান, সমস্ত তথ্য ও প্রক্রিয়া রাজ্য সরকারের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকে SIR বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি জটিলতার কথাও উঠে আসে। কমিশন সাফ জানিয়ে দেয়, বিহারের মতোই SIR সিস্টেম দেশের প্রতিটি রাজ্যে চালু করা হবে, এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ আর নবান্নের ‘মানসিক ভারসাম্য’ বজায় রাখার যুক্তি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে, রাজ্যের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, সেদিকে এখন নজর গোটা দেশের।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: রাজ্যে আসছে ‘দুর্গা অঙ্গন’, বাংলার সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে মমতার নতুন পদক্ষেপ