তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের ছবি আরও একবার স্পষ্ট হল মন্তেশ্বরের মালডাঙা অঞ্চলে। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী ও জমিয়ত নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury) সম্প্রতি ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভার আগে সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে একাংশ দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, তাঁর কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ, কালো পতাকা প্রদর্শন, এমনকি জল ছোঁড়া ও লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় প্রবলভাবে ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন, যদি এমন অপমান ও অস্থিরতা চলতে থাকে, তবে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমন অবস্থায় পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি ফোন করেন সিদ্দিকুল্লাকে। সূত্রের খবর, প্রায় পাঁচ মিনিটের কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংগঠন কোনও ভাবেই এ ধরনের অনুশাসনহীন আচরণ বরদাস্ত করবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসেই আপাতত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সিদ্দিকুল্লা। তিনি জানান, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সব জানিয়েছি। উনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, যেখানেই এরকম হবে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগ, বিক্ষোভের পেছনে ছিলেন মন্তেশ্বর পঞ্চায়েতের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা।

তৃণমূলের অন্দরেই এই ধরনের ঘটনার জেরে বিরোধীদের একাংশ বিষয়টি রাজনৈতিক সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয় হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:TRP: প্রকাশিত হলো এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা

By Sk Rahul

Senior Editor of Newz24hours