বাঁকুড়া (Bankura) জেলার ওন্দা ব্লকের অন্তর্গত বালিয়াড়া গ্রাম।আর পাঁচটা গ্রামের মতোই গ্রাম্য পরিবেশ সেখানেও।কিন্তু একটি বিষয়ে একদমই আলাদা।কারণ এই গ্রামে কোনো দোতলা বাড়ি নেই।আসলে ইচ্ছা করেই কেও করেন না।একটা দুটো দোতলা বাড়ির দেখা মিললেও পাকা ছাদ নেই।
বাসিন্দাদের দাবি,মনসার স্বপ্নাদেশ গ্রামে নাকি কোনো দোতলা বাড়ি করা চলবে না।করলেই বিপদ।
বাসিন্দারা আরো জানান,এই গ্রামেরই এক মাস্টারমশাই সত্যনারায়ণ পাল গ্রামবাসীদের মধ্যে অন্ধবিশ্বাস ভেঙে দোতলা বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন।পরিকল্পনা মাফিক যখন দোতলা বাড়ির ছাদের সিঁড়ি ঢালাই হয়,তারপরেই নাকি একটি বাচ্চা ছেলের সাথে ধাক্কা লেগে তাঁর পা ভেঙে যায়।এরপর অনেক চিকিৎসার পরেও নাকি তার পা-কে আর সারানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি।তারপর হটাৎই একদিন মৃত্যু হয় মাস্টার মশাইয়ের।এই ঘটনার পর থেকে আরো বেশি করে এই গ্রামের কোন মানুষ দোতালা বাড়ির ছাদ ঢালাই করার দুঃসাহস দেখায় না।কেউ শখ করে দোতলা বাড়ি তুললেও মাথার চালা হিসেবে দেওয়া হয় এডবেষ্টর বা টিন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সত্যনারায়ণ পালের ছেলে সৌরেন পাল আমাদের প্রতিনিধিকে জানান,-বাবা লোকের কুসংস্কারকে ভাঙার জন্য উপরতলা পাকাপোক্তভাবে করার জন্য ভেবেছিলেন ঠিকই,কিন্তু বাবার মৃত্যুর কারণ গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর রাগ বলে তিনি মানেন না।তাঁর দাবি,-ঠাকুর কখনো কারো ক্ষতি করে না।বরং লোকের ভালোই করে।তার মতে,এই ধরনের একটা কুসংস্কার ভেঙ্গে যাওয়ার প্রয়োজন আছে।
একই কথা বলেছেন বিজ্ঞান মঞ্চের এক সদস্য।তার কথায়,-এই ধরনের কোন জিনিসের কোন অস্তিত্ব নেই,এটা শুধু মাত্র মানুষের একটা ভ্রম।
এখন শুধু এটাই দেখার,-প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই প্রান্তিক বালিয়াড়া গ্রামের মানুষেরা কি একই চিন্তাধারা নিয়ে বাস করবেন?নাকি তাদের চিন্তা ভাবনার একটা পরিবর্তন ঘটবে?
আরো পড়ুন:Manipur : মণিপুরের পরিস্থিতি সামাল দিতে মোদী-শাহ-র কাছে আর্জি মেরি কমের