বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিৎ মল্লিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee Ranjit Mallick meeting)। বুধবার বিকেলে ভবানীপুরে অভিনেতার বাসভবনে পৌঁছন তিনি। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে এই সাক্ষাৎ। অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee Ranjit Mallick meeting) স্পষ্ট করে জানান, এই সাক্ষাতে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি আজ রাজনীতির কথা বলতে আসিনি।” তিনি জানান, রঞ্জিৎ মল্লিকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।

অভিষেক বলেন, ছোটবেলায় তাঁর দেখা প্রথম ছবিগুলির একটি ছিল রঞ্জিৎ মল্লিক অভিনীত ‘গুরুদক্ষিণা’। সেই ছবির সঙ্গে তাঁর শৈশবের বহু স্মৃতি যুক্ত। তিনি আরও জানান, রঞ্জিৎ মল্লিকের অধিকাংশ ছবি তাঁর জন্মের আগেই মুক্তি পেয়েছিল।

যদিও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি বলেই দাবি, তবুও রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা হয়েছে বলে জানান অভিষেক। কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে এবং সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে—এই বিষয়গুলি তিনি রঞ্জিৎ মল্লিককে জানান। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এই সময় সাংবাদিকদের সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রঞ্জিৎ মল্লিক। তিনি এগিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জড়িয়ে ধরে বলেন, “ওকে আমার খুব ভালো লাগে। খুব ভালো লাগে।”

উল্লেখ্য, এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচারাভিযানের কথাও উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প—বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো মহিলাকেন্দ্রিক উদ্যোগ—লোককথার ঢঙে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ আবেগ ও স্মৃতির আবহে বিশেষ গুরুত্ব পেল বলে মনে করা হচ্ছে।

 

আরো দেখুন:Suvendu Adhikari: তল্লাশির সময় মমতাকে ‘অহেতুক’ না-আটকানোয় ইডির প্রশংসা শুভেন্দুর! নেপথ্যে কি অন্য কোনো সমীকরণ?