আইপ্যাকের (I Pac) অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কটাক্ষ করে তিনি বরং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) ভূমিকাকেই সাধুবাদ জানালেন। রবিবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু। মিছিল শেষে দেশপ্রিয় পার্কে আয়োজিত বিজেপির সভা থেকেই তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় ইডি ইচ্ছাকৃতভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে বাধা দেয়নি, আর সেটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চেয়েছিলেন। বিরোধী দলনেতার কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য ছিল ইডি যদি তাঁকে ধাক্কা দেয় বা বাধা দেয়, তাহলে সেই ঘটনাকে সামনে রেখে তিনি আইনি লড়াই শুরু করবেন এবং রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করবেন। এমনকি তিনি উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, অনেকেই মত দিয়েছেন যে, সেদিন তৃণমূলের তরফে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ইডি অফিস বা অভিযানের স্থলে ঢুকতে দেওয়া উচিত হয়নি। তবে শুভেন্দুর মতে, ইডি ও সিআরপিএফ যে সংযম দেখিয়েছে, সেটাই পরিস্থিতিকে আরও বড় সংঘর্ষে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। এই কারণে তিনি শুধু ইডি নয়, অভিযানের সময় কর্তব্যরত সিআরপিএফ জওয়ানদের ভূমিকাকেও প্রশংসা করেন।
তবে শুভেন্দুর এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসক শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরেই ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছেন। তাঁর দাবি, সাত বছর পুরনো মামলায় নোটিস না দিয়েই ইডি অভিযান চালিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি কয়লাকাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়িত থাকার প্রসঙ্গও তোলেন তৃণমূল মুখপাত্র।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইডির অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে ওঠে। যদিও অভিযানের পরদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং তাঁর কাজে কোনও বেআইনি কিছু ছিল না। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।