পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে আর নিছক প্রাদেশিক রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখতে নারাজ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার (JP Nadda West Bengal visit) সাম্প্রতিক রাজ্য সফরেই সেই অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দু’দিনের সফরের প্রথম দিনেই একাধিক সাংগঠনিক বৈঠকে নাড্ডা জানান, এ বারের নির্বাচন বিজেপির কাছে শুধু ক্ষমতা দখলের প্রশ্ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘর্ষ।

নাড্ডার (JP Nadda West Bengal visit) বক্তব্যে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব। তাঁর মতে, বাংলা এখন আর শুধুমাত্র একটি রাজ্য নয়—দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। সেই কারণেই এই নির্বাচনে কোনও আপস, কোনও দ্বিধা বা ‘যদি-কিন্তু’-র জায়গা নেই। লক্ষ্য একটাই—বিধানসভা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা।

রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করে বিজেপি সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ‘হবে না’ মানসিকতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রাজ্য ক্রমশ স্থবিরতার দিকে এগিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির রাজনৈতিক সুর হিসেবে তিনি তুলে ধরেন—‘হবে, হবে, হবে’। নাড্ডার কথায়, প্রশাসনিক অচলাবস্থা ভেঙে সুশাসন ও উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু করাই বিজেপির লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার বিধাননগর সেক্টর ফাইভে অনুষ্ঠিত বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠন সম্পাদকরা। জেলা সভাপতি ও আহ্বায়কদের সঙ্গে আলোচনায় নাড্ডা বুথ স্তরের সংগঠন, ভোটার সংযোগ এবং নির্বাচনী রণকৌশলের উপর বিশেষ জোর দেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির ৪৩ জন মন্ত্রীকে বাংলার ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাড্ডার বক্তব্য কোনও বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক বার্তা নয়। এর আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ পশ্চিমবঙ্গের লড়াইকে ‘সভ্যতা রক্ষার লড়াই’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। একই সুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় স্বার্থের কথা তুলে ধরেছেন।

সব মিলিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট—এ বারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন তাদের কাছে শুধু রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক দিশা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেপি নাড্ডা।

 

আরো দেখুন:Mamata Banerjee:‘রাস্তাই পথ দেখাবে’ ইডি অভিযানের প্রতিবাদে যাদবপুর থেকে হাজরা মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন!