রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরঙ্গ। পানিহাটিতে এক প্রৌঢ়ের আত্মহত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তুঙ্গে। পরিবারের দাবি, এনআরসি ও নাগরিকত্ব নিয়ে ভয় থেকেই চরম পদক্ষেপ করেছেন তিনি। তবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানালেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। “কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, আশ্বাস তার।

আরও পড়ুন: SSC: লকডাউনের মধ্যেও নিয়োগপত্র! পার্থর উপস্থিতিতে আদালতে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

সর্বদল বৈঠকের পর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আগরওয়াল বলেন, বাংলায় পর্যাপ্ত সময় পাওয়া গেছে, তাই বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা শুরু হবে। প্রত্যেক ভোটারকে দেওয়া হবে এনুমারেশন ফর্ম, এবং বিএলওরা সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য যাচাই হবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে। প্রত্যেক ভোটারের জন্য থাকবে পৃথক কিউআর কোড— যা পুরো প্রক্রিয়াকে করবে স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর। তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও ভোটারের নাম বাদ পড়ে, তাকে নোটিস পাঠিয়ে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। হেল্পডেস্ক থাকবে প্রত্যেক জেলায়।”

তবে প্রশাসনের আশ্বাসে থামছে না রাজনৈতিক তরঙ্গ। সর্বদল বৈঠকে উত্তেজনার কেন্দ্রে ছিল আধার কার্ড ও এনুমারেশন ফর্মের ব্যবহার। তৃণমূলের প্রতিনিধি ফিরহাদ হাকিম সরাসরি অভিযোগ করেন, “নির্বাচন কমিশন (Election Commission) বিজেপির (BJP) সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলায় এনআরসি চাপিয়ে দিতে চাইছে। একটিও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়লে রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন হবে।” একই সুরে অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য, “এসআইআর আসলে সিএএ-এনআরসির পূর্বাভাস। এর দায় নিতে হবে কমিশনকেই।”

অন্যদিকে, সিপিএমের (CPIM) সুজন চক্রবর্তী কমিশনের ওপর চাপ বাড়িয়ে বলেন, “বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া চলবে না। বিএলও-রা যদি বাইরের এলাকার হন, তাহলে স্থানীয় বিএলএ কেন হবেন না, তারও ব্যাখ্যা চাই।” বিজেপি অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে। দলের মুখপাত্র শিশির বাজোরিয়া বলেন, “এনআরসি-র ভয় দেখিয়ে তৃণমূল নিজেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আত্মহত্যার দায় মুখ্যমন্ত্রীরই। হারের ভয়ে তৃণমূল এখন এসআইআরকেও রাজনৈতিক অস্ত্র বানাতে চাইছে।”

এসবের মধ্যেই আগরওয়ালের আশ্বাস, “স্বচ্ছ, নির্ভুল ও ন্যায়সঙ্গত ভোটার তালিকা তৈরিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।” তবে রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন ঘুরছে, এই আশ্বাস কি সত্যিই ভয় মেটাতে পারবে? নাকি এসআইআর হয়ে উঠবে বাংলার নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু?

By Sk Rahul

Senior Editor of Newz24hours