দুর্গাপুজোর পর টানা ঘোরাঘুরি, ক্লান্তি ও দূষণে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। তার মধ্যেই হাজির দীপাবলি ও ভাইফোঁটার মরসুম। ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সালোঁয় গিয়ে ফেশিয়াল করাতে পারেন না। তবে চিন্তার কিছু নেই— ঘরোয়া উপায়েই ত্বককে ফেরানো যায় প্রাণবন্ত ও দীপ্তিময় করে। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই সম্ভব ত্বকের ডিটক্স, যা বোটক্সের মতোই কাজ করে। মাত্র কয়েকটি বীজের সাহায্যে আপনি পেতে পারেন দীপাবলির আগে ঝলমলে ত্বক।

 

চিয়া বীজে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে, প্রদাহ কমায় এবং দাগছোপ ও বয়সের ছাপ দূর করে। তিসি বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে টানটান রাখে, বলিরেখা পড়তে দেয় না এবং যৌবন ধরে রাখে। কুমড়োর বীজে থাকে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক, যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠন ও কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক হয় দীপ্তিময়। সূর্যমুখীর বীজে থাকা লিনোলাইক অ্যাসিড ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমায়, ট্যান ও দাগছোপ দূর করে এবং সংবেদনশীল ত্বককে শান্ত রাখে। তিলের বীজেও রয়েছে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও নানা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ত্বকের আর্দ্রতা ও ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে।

 

এই বীজগুলো দিয়ে ঘরোয়া ফেসপ্যাক বানানোও খুব সহজ। প্রথমে চিয়া বীজ সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন যাতে এটি জেলির মতো নরম হয়। এরপর ২ চামচ কুমড়োর বীজ, ২ চামচ সূর্যমুখীর বীজ, ১ চামচ তিসি, ১ চামচ তিল ও ১ চামচ চিয়া বীজ শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিন। তারপর এতে কিছু আখরোট ও কাঠবাদাম মিশিয়ে গুঁড়ো করে কাচের জারে সংরক্ষণ করুন। ফেসপ্যাক তৈরির সময় এই মিশ্রণ থেকে ২ চামচ গুঁড়ো নিয়ে তার সঙ্গে ১ চামচ টকদই ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। প্রায় ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে এর সঙ্গে সামান্য অ্যালো ভেরা জেলও যোগ করতে পারেন।

 

এই প্যাক ত্বকের কোলাজেন পুনর্গঠন করে, বলিরেখা কমায় এবং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। শুধু ফেসপ্যাক হিসেবেই নয়, এই রোস্টেড বীজ ও বাদামের মিশ্রণ ওট্‌স, স্মুদি বা ঘরোয়া প্রোটিন শেকের সঙ্গে খেতেও পারেন। এতে শরীর ও ত্বক— দুই-ই থাকবে ভিতর থেকে সুস্থ ও দীপ্তিময়।

আরও পড়ুন: TRP: প্রকাশিত হলো এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা

Image source-Google

By Torsha