বাঙালির আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা দুর্গাপুজো এখন কেবল বাংলার নয়, বিশ্ব সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২১ সালে ইউনেস্কো কলকাতার দুর্গাপুজোকে (Kolkata Durga Puja) ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি কার অবদানে সম্ভব হয়েছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi) ১২৬তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে দাবি করলেন, এই স্বীকৃতি এসেছে মূলত কেন্দ্র সরকারের প্রচেষ্টাতেই। তাঁর কথায়, “কয়েক বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ইউনেস্কোর তালিকায় জায়গা করে নেয় কলকাতার দুর্গাপুজো। আমাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

এই বক্তব্য রাখতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রী ছট পুজোর প্রসঙ্গ তোলেন। জানান, ছট পুজোকেও ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, এই স্বীকৃতি পেলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছট পুজোর মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারবেন।

অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর স্বীকৃতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি একেবারেই আলাদা। ২০২২ সালের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেছিলেন, “ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পুরোপুরি বাংলার মানুষের, পুজো কমিটি ও ক্লাবগুলির যৌথ উদ্যোগের ফল। এই স্বীকৃতির পিছনে কেন্দ্রের কোনও ভূমিকা নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্য সরকারের ‘পুজো কার্নিভাল’ এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পুজো তুলে ধরার উদ্যোগই ইউনেস্কোর নজর কাড়ে। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য ছিল, “এই স্বীকৃতিতে কেন্দ্র বা বিজেপির অবদান বিগ জিরো।”

এই বিতর্কের মধ্যেই বিজয়া দশমীর দিন আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তিতে ‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী আরএসএস-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। দেশবাসীকে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে বলেন, “আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন তখনই সফল হবে, যখন আমরা নিজের দেশের তৈরি পণ্য কিনব।”

আরও পড়ুন: Calcutta High Court: কলকাতা হাই কোর্টে প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন সুজয় পাল, সৌমেন সেন যাচ্ছেন মেঘালয়ে

 

By Sk Rahul

Senior Editor of Newz24hours