ভোটার তালিকায় অবৈধ ভাবে নাম অন্তর্ভুক্তির গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত চার সরকারি আধিকারিককে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করল রাজ্য সরকার (Bengal voter list irregularities)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। পাশাপাশি কমিশনের তরফে ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, আপাতত এফআইআর করা হচ্ছে না বলেই মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয়েছে। তবে বিভাগীয় তদন্ত বা ‘ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং’ (ডিপি) প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যাতে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

সূত্র অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন ব্লকে কর্মরত এই চার আধিকারিকের মধ্যে দু’জন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও) এবং দু’জন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা এইআরও)। অভিযোগ উঠেছে, ভোটার তালিকায় একাধিক ক্ষেত্রে বেআইনি ভাবে নাম তোলা হয়েছে এবং প্রমাণ যাচাইয়ের প্রাথমিক ধাপেই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কমিশনের কাছে সেই প্রমাণ পৌঁছনোর পরেই কড়া নির্দেশ আসে।

নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম ভিত্তি। সেখানে যে কোনও ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ প্রক্রিয়াকে কোনও ভাবেই সহ্য করা হবে না। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকদের ভোটাধিকার (Bengal voter list irregularities) নিশ্চিত করার জন্য যেমন সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তেমনই বেআইনি প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।

নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যসচিব কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন এবং তাতে বলা হয়েছে— নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো চার আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এফআইআর না করার সিদ্ধান্তে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এফআইআর না হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে আমলাতন্ত্রের মধ্যে এই ঘটনার অভিঘাত বেশ স্পষ্ট। প্রশাসনিক স্তরে চাপ বাড়ছে, কারণ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এখন পুরোদমে চলছে এবং সেখানে কোনও গাফিলতি ধরা পড়লে কমিশন আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে এমন অনিয়ম আর না ঘটে, সেই বিষয়ে সব জেলার আধিকারিকদের বিশেষ সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে। কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে— স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটের স্বার্থে কোনও প্রকার অনিয়মে যুক্ত আধিকারিকদের রেয়াত করা হবে না।

 

আরো দেখুন:Abhishek Banerjee: SIR থেকে নজর ঘোরাতে মরিয়া কেন্দ্র, অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের