শরৎ এলেই বাঙালির রান্নাঘরে শুরু হয় তালের নানা পদ তৈরির তোড়জোড়। তালফুলুরি, তালের বড়া, তালের লুচি থেকে শুরু করে তালের পায়েস বা মালপোয়া— মরসুমি এই স্বাদ উপভোগ করতে পছন্দ করেন অনেকেই। কিন্তু সুস্বাদু এই খাবার খাওয়ার পরই কারও কারও দেখা দেয় অম্বল, গ্যাস বা বুকজ্বালার সমস্যা। তাহলে কি তাল খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে? তা নয়। বরং কী ভাবে তাল দিয়ে পদ তৈরি হচ্ছে এবং কতটা খাচ্ছেন, সেদিকেই নজর দেওয়া জরুরি।

তাল কি আদৌ শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

তাল নিজে ক্ষতিকর কোনও খাবার নয়। এতে ভিটামিন এ, বি ও সি-এর পাশাপাশি ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রনের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে তাল খেলে হজমের ক্ষেত্রেও কিছুটা উপকার মিলতে পারে। কিন্তু তাল দিয়ে তৈরি খাবারে অতিরিক্ত তেল, চিনি, গুড়, ময়দা বা আটা যোগ হলে ছবিটা বদলে যায়।

কেন তালফুলুরি খেলে অম্বল হতে পারে?

তালের বিভিন্ন পদে ব্যবহৃত উপকরণ এবং রান্নার পদ্ধতিই অনেক সময় হজমের সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ডুবো তেলে ভাজা তালফুলুরিতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এই ধরনের খাবার হজম হতে সময় নেয় এবং কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালার সমস্যা বাড়াতে পারে।

অন্য দিকে, তালফুলুরি বা তালের বড়ায় প্রচুর গুড়, চিনি, আটা কিংবা ময়দা ব্যবহার করলে খাবারটি আরও ভারী হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত মিষ্টি ও শর্করাও পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

তালের কাঁচা রস ঠিকমতো জ্বাল না দিলে তার কষাভাব থেকেও পেটে অস্বস্তি হতে পারে। আবার তালের ক্বাথ তুলনামূলক ভাবে ভারী হওয়ায় রাতে খাওয়ার পর তা হজম হতে বেশি সময় লাগতে পারে।

কী ভাবে তালের পদ খাবেন?

১. কষ ভালো ভাবে ঝরিয়ে নিন: তাল থেকে পাল্প বার করার পর অল্প আঁচে ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিলে কাঁচাভাব ও কষ কমবে।

২. উপকরণে বদল আনুন: ময়দার পরিবর্তে চালের গুঁড়ো বা সুজি ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত চিনির বদলে পরিমিত গুড় ব্যবহার করাও তুলনামূলক ভাল বিকল্প।

৩. বাড়তি তেল সরিয়ে নিন: তালফুলুরি বা বড়া ভাজার পর কিচেন টিস্যুর উপর রাখলে অতিরিক্ত তেল কিছুটা শুষে নেওয়া যায়।

৪. খালি পেটে খাবেন না: সকালে খালি পেটে কিংবা ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে তেলে ভাজা তালের পদ না খাওয়াই ভাল। দুপুর বা বিকেলের দিকে অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

৫. পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন: একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে অল্প পরিমাণে খান। তালের বড়া বা ফুলুরি কয়েকটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ভাল। তালের মালপোয়া বা লুচিও পরিমিত খাওয়াই শ্রেয়।

৬. বিকল্প রান্না বেছে নিন: ভাজাভুজির পরিবর্তে তালের পায়েস, ভাপে তৈরি তালের পিঠে কিংবা কম তেলে তৈরি তালের গোলারুটি খেতে পারেন।

তাই শরতের মরসুমি ফল তালকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। রান্নার পদ্ধতি, উপকরণ এবং খাওয়ার পরিমাণে সামান্য সচেতন হলেই পেটের অস্বস্তির ঝুঁকি কমিয়ে তালের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: Ishan Khatter: ইশান-চাঁদনীর তিন বছরের সম্পর্কে ছেদ? সারা অর্জুনকে ঘিরে নতুন জল্পনা বলিপাড়ায়

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *