অনিয়মিত ঋতুস্রাব, মুখে ব্রণ, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত রোম গজানো বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা— পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) বা পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভোগা বহু মহিলার নিত্যদিনের সমস্যা। সম্প্রতি এই উপসর্গগুলির উপশমে একটি ঘরোয়া উপায়ের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী। তাঁর মতে, যষ্টিমধু ফোটানো জল নিয়মিত পান করলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের টোটকা অনুসরণের আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

 

আরও পড়ুন: Silent Reflux: রোজ সকালে গলা খুসখুস বা স্বর ভেঙে যাচ্ছে? সাধারণ সর্দি নয়, ‘সাইলেন্ট রিফ্লাক্স’-এর লক্ষণও হতে পারে

 

ভাগ্যশ্রীর পরামর্শ অনুযায়ী, এক টুকরো যষ্টিমধুর শিকড় এক কাপ জলে পাঁচ থেকে সাত মিনিট কম আঁচে ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকে পান করতে হবে। তাঁর দাবি, যষ্টিমধু শরীরে অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের মাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত রোম গজানো, ব্রণ এবং অনিয়মিত ঋতুস্রাবের মতো কিছু উপসর্গের তীব্রতা কমতে পারে।

 

চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, যষ্টিমধুতে থাকা গ্লাইসিরাইজিন (Glycyrrhizin) নামের একটি সক্রিয় উপাদান প্রদাহ কমাতে এবং হরমোনের ভারসাম্যে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। কয়েকটি ছোট গবেষণায় অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, শুধুমাত্র যষ্টিমধুর উপর নির্ভর করে পিসিওএসের চিকিৎসা সম্ভব— এমন প্রমাণ এখনও যথেষ্ট নয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিসিওএস (PCOS) একটি জটিল হরমোনজনিত সমস্যা। এর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন। ঘরোয়া কোনও উপায় কখনও মূল চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না।

 

এ ছাড়াও যষ্টিমধু সবার জন্য নিরাপদ নয়। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা কিংবা যাঁরা স্টেরয়েড বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত যষ্টিমধুর জল পান করা উচিত নয়।

 

যাঁদের অন্য কোনও গুরুতর শারীরিক সমস্যা নেই, তাঁরা সীমিত পরিমাণে এটি পান করতে পারেন। তবে উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে বা সমস্যা বাড়তে থাকলে ঘরোয়া টোটকার উপর ভরসা না করে অবশ্যই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *