সকালে ঘুম থেকে উঠেই গলা খুসখুস করা, স্বর ভেঙে যাওয়া বা গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি— এমন সমস্যা অনেকেই সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জির কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের উপসর্গের নেপথ্যে থাকতে পারে সাইলেন্ট রিফ্লাক্স (Silent Reflux) বা লারিঙ্গোফ্যারিঞ্জিয়াল রিফ্লাক্স ডিজঅর্ডার (LPRD)। সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত না হলে দীর্ঘদিন গলার অস্বস্তি, কাশি এবং স্বরযন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: Diya Mirza: পাঁচ বছরের ছেলেকে ঘিরে বিতর্কে দিয়া মির্জ়া, সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন রিচা চড্ঢা
সাধারণ অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা অন্যতম প্রধান উপসর্গ। কিন্তু সাইলেন্ট রিফ্লাক্সে (Silent Reflux) অনেক সময় বুকে জ্বালাভাব থাকে না। তাই অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে সমস্যা আসলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের কারণে হচ্ছে। এই অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে গলার পিছনের অংশ ও স্বরযন্ত্রে পৌঁছে প্রদাহ সৃষ্টি করে। গলার এই অংশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য অ্যাসিডও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
কোন কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন?
১. সব সময় মনে হওয়া যে গলায় কিছু আটকে রয়েছে।
২. সকালে ঘুম থেকে উঠেই গলা ভারী বা স্বর ভাঙা লাগা।
৩. বিশেষ করে রাতে শুকনো কাশি হওয়া।
৪. কিছুক্ষণ কথা বললেই গলা জ্বালা বা অস্বস্তি অনুভব করা।
৫. মুখে সারাক্ষণ টক বা তেতো স্বাদ লেগে থাকা।
এই উপসর্গগুলি বারবার দেখা দিলে কেবল কাশির সিরাপ বা গলার ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেন হয় সাইলেন্ট রিফ্লাক্স?
কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—
১. রাতে অনেক দেরি করে খাওয়া।
২. খাবার খাওয়ার পরই শুয়ে পড়া।
৩. অতিরিক্ত চা বা কফি পান।
৪. নিয়মিত তেল-মশলাযুক্ত বা বাইরের খাবার খাওয়া।
৫. মানসিক চাপের কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।
৬. অতিরিক্ত ওজন।
৭. ধূমপানের অভ্যাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সময়মতো খাবার খাওয়া, খাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরে শোয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়ানো এবং চা-কফির পরিমাণ কমানো উপকারী হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও খেতে হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে গলা খুসখুস, স্বর ভেঙে যাওয়া বা শুকনো কাশির সমস্যা থাকলে সেটিকে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে অবহেলা না করাই ভাল। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব এবং জটিলতার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে।
Image source-Google