বাঙালির খাদ্যতালিকায় মিষ্টির আলাদা জায়গা রয়েছে। উৎসব-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ দুপুর বা রাতের খাবার— শেষ পাতে একটি মিষ্টি না হলে যেন অনেকেরই খাওয়া সম্পূর্ণ হয় না। তবে ডায়াবিটিস, স্থূলতা এবং কোলেস্টেরলের মতো সমস্যার কারণে এখন অনেকেই মিষ্টি খাওয়া কমানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইচ্ছাকে পুরোপুরি দমন করাও সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিষ্টি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক সময় ও পরিমাণ মেনে খেলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই খাওয়ার শেষে মিষ্টি খাবেন ভেবেই শুরু থেকে সেই প্রত্যাশা নিয়ে খাবার খান। এতে খাবার শেষ হওয়ার পরও মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ থেকেই যায়। এই অভ্যাস বদলাতে চাইলে খাওয়ার শুরুতেই খুব অল্প পরিমাণে মিষ্টি খেতে পারেন। এতে মস্তিষ্ক দ্রুত তৃপ্তির সংকেত পায় এবং পরে অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমে।
বিশেষজ্ঞদের আরও পরামর্শ, ডায়েট থেকে মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়। কারণ, দীর্ঘদিন কোনও প্রিয় খাবার না খেলে তার প্রতি আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।
হঠাৎ মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করলে আগে এক গ্লাস জল পান করুন। অনেক সময় শরীরে জলের ঘাটতি হলে মস্তিষ্ক ভুল করে সেটিকে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বলে মনে করে। জল খাওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে অনেক ক্ষেত্রেই সেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমে যায়। এছাড়া তাজা ফল বা এক টুকরো ডার্ক চকোলেটও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
তবে খালি পেটে বেশি চিনি বা মিষ্টি খাওয়া উচিত নয়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবিটিস, প্রি-ডায়াবিটিস, স্থূলতা বা মেটাবলিক সিন্ড্রোম রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। প্রয়োজন হলে দুই বেলার খাবারের মাঝখানে অল্প পরিমাণে মিষ্টি খাওয়া যেতে পারে।
রাতের খাবারের পর অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসও এড়াতে বলছেন চিকিৎসকেরা। রাতে শরীরের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক ধীর থাকে। ফলে অতিরিক্ত চিনি সহজে ব্যবহার হতে পারে না এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করার সমস্যা তৈরি করতে পারে।
মিষ্টি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত রসে ভেজা মিষ্টির বদলে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকোলেট, গুড় ও তিলের লাড্ডু, ফল মেশানো টক দই কিংবা ড্রাই ফ্রুটসের সঙ্গে সামান্য গুড় খেতে পারেন। এতে মিষ্টির স্বাদও মিলবে, আবার পুষ্টিগুণও বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: বারবার ভুলে যাচ্ছেন? মনোযোগ কমছে? মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমার নেপথ্যে থাকতে পারে এক সহজ কারণ
Image source-Google