কাজে মন বসছে না, ছোটখাটো বিষয়ও মনে রাখতে সমস্যা হচ্ছে? সব সময় যে বড় কোনও অসুখই দায়ী, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই শরীরে জলের ঘাটতিই এমন সমস্যার সূত্রপাত ঘটায়।
সারাদিনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব— এসব কারণে মনোযোগে ঘাটতি বা স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার অভিযোগ এখন খুবই সাধারণ। অনেকেই একে ‘ব্রেন ফগ’ বলে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরে জলশূন্যতা, যা অনেক সময় আমাদের নজরই এড়িয়ে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, অফিসে দীর্ঘক্ষণ কাজ, নিয়মিত যাতায়াত, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, অতিরিক্ত চা বা কফি পান এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ধীরে ধীরে শরীরে তরলের ঘাটতি তৈরি হয়। শুরুতে সমস্যা তেমন বোঝা না গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মানবদেহের ওজনের মাত্র ২ শতাংশ জল কমে গেলেও মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, ৬০ কেজি ওজনের একজন মানুষের শরীর থেকে প্রায় ১.২ লিটার জল কমে গেলেই ডিহাইড্রেশনের প্রভাব দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের গতি ধীর হয়ে যায়। ফলে ভাবনা, হিসাব-নিকাশ কিংবা নতুন তথ্য মনে রাখার মতো কাজ আগের তুলনায় কঠিন হয়ে ওঠে।
**কী ভাবে বুঝবেন শরীরে জলের ঘাটতি হয়েছে?**
**১. অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া:**
তেষ্টা পাওয়া ডিহাইড্রেশনের অন্যতম লক্ষণ। তবে তেষ্টা লাগার আগেই শরীরে জলের ঘাটতি শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু তেষ্টা পেলেই জল খাওয়ার অভ্যাস যথেষ্ট নয়।
**২. প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া:**
প্রস্রাবের রং যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলুদ বা গাঢ় হয়, তবে তা শরীরে জলের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পর্যাপ্ত জল পান করা প্রয়োজন।
**৩. চামড়া চিমটি কেটে পরীক্ষা:**
হাতের পিছনের অংশের চামড়া কয়েক সেকেন্ডের জন্য আলতো করে চিমটি কেটে ছেড়ে দিন। যদি সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তবে সাধারণত শরীরে জলের ভারসাম্য ঠিক রয়েছে। কিন্তু চামড়া যদি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে, তা হলে ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা সব সময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান, জলসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজের ফাঁকে নিয়মিত জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এতে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও থাকবে সতেজ, কর্মক্ষম ও সক্রিয়।
Image source-Google