হিন্দু ধর্মে তুলসীগাছকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তুলসি দেবী হলেন ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় এবং মা লক্ষ্মীর প্রতিরূপ। তাই বহু পরিবারেই প্রতিদিন তুলসীগাছে জল দেওয়া, প্রদীপ জ্বালানো এবং প্রার্থনা করার রীতি প্রচলিত। মনে করা হয়, যে বাড়িতে সুস্থ ও সতেজ তুলসীগাছ থাকে, সেখানে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে এবং সংসারে সুখ-শান্তি বিরাজ করে। তবে শুধু তুলসীগাছ রাখলেই হবে না, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিছু নিয়মও মেনে চলা জরুরি। অন্যথায় শুভ ফলের বদলে অশুভ প্রভাব পড়তে পারে বলে মত বাস্তুশাস্ত্রবিদদের।

 

তুলসীগাছ রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক দিক নির্বাচন। বাস্তুমতে, বাড়ির উত্তর, উত্তর-পূর্ব বা পূর্ব দিকে তুলসীগাছ রাখা সবচেয়ে শুভ। এই দিকগুলি ইতিবাচক শক্তির উৎস বলে বিবেচিত হয়। অন্য দিকে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে তুলসীগাছ রাখা অনুচিত। বিশ্বাস করা হয়, এতে পরিবারের আর্থিক ও মানসিক স্থিতি ব্যাহত হতে পারে।

 

তুলসীগাছ সব সময় মাটি থেকে কিছুটা উঁচু স্থানে রাখা উচিত। সরাসরি মাটিতে টব না রেখে বেদি বা স্ট্যান্ডের উপর স্থাপন করাই শ্রেয়। পাশাপাশি তুলসীতলার আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে জুতোর র্যাক, ঝাড়ু বা আবর্জনার পাত্র রাখা উচিত নয়।

 

অনেকেই সৌন্দর্যের জন্য তুলসীর পাশে নানা ধরনের গাছ রাখেন। তবে কাঁটাযুক্ত গাছ, বিশেষ করে ক্যাকটাস, তুলসীর কাছাকাছি রাখা শুভ বলে মনে করা হয় না। পরিবর্তে কলাগাছ থাকলে তা অত্যন্ত মঙ্গলজনক বলে ধরা হয়।

 

প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাকে তুলসীগাছে জল দেওয়া শুভ। তবে সূর্যাস্তের পরে জল দেওয়া বা গাছ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর তুলসি দেবী বিশ্রাম নেন। একই কারণে সূর্যাস্তের পরে তুলসীপাতা ছেঁড়াও অনুচিত বলে ধরা হয়।

 

জ্যোতিষশাস্ত্রে রবিবার, একাদশী এবং সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের দিন তুলসীগাছে জল না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ দিনগুলিতে পাতা সংগ্রহ করাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

 

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শুকিয়ে যাওয়া তুলসীগাছ। বাড়িতে দীর্ঘদিন শুকনো তুলসীগাছ রাখা অমঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। যদি গাছটি শুকিয়ে যায়, তবে তা যথাযথভাবে সরিয়ে নতুন গাছ রোপণ করা উচিত।

 

প্রতিদিন সন্ধ্যায় তুলসীতলায় ঘি বা সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে বিবেচিত হয়। এর ফলে পরিবারের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

 

তবে প্রয়োজন ছাড়া তুলসীপাতা ছেঁড়া উচিত নয়। পাতা তুলতে হলে নখ ব্যবহার না করে আঙুলের সাহায্যে আলতো করে তুলতে হবে। এছাড়া বিষ্ণু, কৃষ্ণ বা রাধার পুজোয় তুলসীপাতা অপরিহার্য হলেও শিব ও গণেশের পুজোয় তুলসীপাতা ব্যবহার না করার প্রচলন রয়েছে।

 

তুলসীগাছ শুধুমাত্র একটি উদ্ভিদ নয়, বহু মানুষের কাছে এটি ভক্তি, বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। তাই এর পরিচর্যায় নিয়ম মেনে চললে বাড়ির পরিবেশ আরও ইতিবাচক ও শান্তিময় হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: Recipe: বাড়িতে বানিয়ে নিন আপেলের ক্ষীর

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *